‘গ্রামে জাগরণের’ ডাক মমতার, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে জেলাশাসকদের মাথা খাটাতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই দেখা গিয়েছিল ভারতে গ্রামীণ এলাকায় চাহিদা কমছে। কারণ মানুষের রোজগার কমেছে এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণের পর সেই চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
শেষ আপডেট: 13 May 2020 10:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই দেখা গিয়েছিল ভারতে গ্রামীণ এলাকায় চাহিদা কমছে। কারণ মানুষের রোজগার কমেছে এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণের পর সেই চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় গ্রাম, গরিবের কথা বলেছেন, ঘরোয়া অর্থনীতি চাহিদা তৈরির কথা বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও অনেকটা তেমনই। জেলাশাসকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামে জাগরণ ঘটাতে হবে। সেটাই হবে আগামী দিনের মডেল।
এদিন পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে সব জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি যে সব নির্দেশ দিয়েছে বা দিশা দেখাতে চেয়েছেন সেগুলি হল:
-
১) বাংলার আবাস যোজনায় ১০ লাখ বাড়ি করা হবে গ্রামে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
-
২) গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য জেলাশাসকদের মাথা খাটাতে হবে। তাঁদের নতুন নতুন আইডিয়া দিতে। কারণ, প্রতিটি জেলার চরিত্র, সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যার বিস্তার আলাদা। সেই অনুযায়ী কীভাবে কোন কর্মসূচি নেওয়া যায় সে ব্যাপারে জেলাশাসকদের ভাবতে হবে। দরকার হলে তাঁদের ১২ ঘন্টার জায়গায় ১৪ ঘন্টা কাজ করতে হবে।
-
৩) বাংলা সড়ক যোজনায় জোর দিতে হবে। পুজোর আগে রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করতে হবে।
-
৪) যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরছেন তাঁরা আপাতত কদিন বিশ্রাম নিন। তার পর তাঁদের একশ দিনের কাজ প্রকল্পে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে একশ দিনের কাজ প্রকল্পে স্থানীয় তথা বর্তমান শ্রমিক অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
-
৫) একশ দিনের প্রকল্পে কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে। যত বেশি সম্ভব কাজ দিতে হবে শ্রমিকদের।
-
৬) মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, মাস্ককে জীবনের সঙ্গী করে নিতে হবে। কারণ, করোনা থাকবে। তার মধ্যেই চাই গ্রাম বাংলার জনজাগরণ। আগামী দিনে আরও দোকানপাট খুলবে। তবে সামাজিক দূরত্ব যথাসম্ভব বজায় রেখে কাজকর্ম করে যেতে হবে।
-
৭) সামাজিক প্রকল্প খাতে সমস্ত উপভোক্তারা যাতে ঠিক সময়ে টাকা পান তা সুনিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন অন্যায় সুযোগ না নিতে পারে তা দেখতে হবে। অর্থাৎ উপভোক্তাদের কেউ যেন ঠকাতে না পারে দেখতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে।
-
৮) রেশন ব্যবস্থায় যাতে কোনও অনিয়ম না হয়, কেউ যেন খাবারের মজুতদারি না করতে পারে তা দেখতে হবে।
-
৯) ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হতে পারে। তাই এখন থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে তিনি গ্রামে পরিকাঠামো বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। অতীতেও তাই হত। রাজা-বাদশারা মহামারী, খরার মতো সংকটের পর রাস্তা, সড়ক বানানোর কাজ করতেন। তাতে মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হত। শ্রমিকরা মজুরি পেতেন। তা দিয়ে খাবার কিনতেন। ফের বাজারে চাহিদা তৈরি হত।
কিন্তু এখানে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বাংলা আবাস যোজনা, একশ দিনের কাজ বা বাংলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ১২ আনা কেন্দ্রের অনুদান নির্ভর। ফলে কেন্দ্র টাকা পাঠালে তবেই যোজনায় কাজ হবে। ফলে এখন দেখার বিষয় কেন্দ্র আর্থিক ভাবে কতটা সহযোগিতা করে। কারণ, এখন এই ধরনের পরিকাঠামো খাতে সব রাজ্যেরই দাবি থাকবে কেন্দ্রের থেকে।