হায়দরাবাদের নৃশংসতা আর নয়! ট্রাক চালকের খপ্পর থেকে মহিলার মান বাঁচালেন সিভিক ভলান্টিয়ার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদের ঘটনার মতোই হয়তো আরও এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষ্মী হত পূর্ব বর্ধমান। ট্রাক চালকের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হতে হত আরও এক মহিলাকে। পরিস্থিতি মোড় নিচ্ছিল সেই দিকেই। কিন্তু হয়নি। কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ারের সাহস এবং উ
শেষ আপডেট: 3 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদের ঘটনার মতোই হয়তো আরও এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষ্মী হত পূর্ব বর্ধমান। ট্রাক চালকের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হতে হত আরও এক মহিলাকে। পরিস্থিতি মোড় নিচ্ছিল সেই দিকেই। কিন্তু হয়নি। কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ারের সাহস এবং উপস্থিত বুদ্ধিতে মান বেঁচেছে মহিলার। গ্রেফতার করা হয়েছে ট্রাক চালককে।
রাত তখন ১২টা। আউশগ্রামের গুসকরায় শিরিষতলার রাস্তা শুনশান। সেখানেই টোলট্যাক্সের কাছে প্রায় সমায়েই দেখা যায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে। ওই চত্বরেই ঘুরে বেড়ান তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিনও টোলট্যাক্সের কাছেই বসেছিলেন ওই মহিলা। সেই সময় সেখানে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক এসে থামে। গাড়ি থেকে নেমে চালক জোরজবরদস্তি মহিলাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। মহিলাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলার সময়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার বিকাশ গড়াই।
“মহিলা চিৎকার করছিলেন। চালকের হাত ছাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁকে মারতে মারতেই ঠেলে ট্রাকে তোলার চেষ্টা করছিল চালক,” বলেছেন সিভিক ভলান্টিয়ার বিকাশ। তিনি বাধা দিতেই চালকের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। চালক তখন প্রায় ট্রাকে উঠে পড়েছিলেন। ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দিয়ে মহিলাকে তুলে ট্রাক ছুটিয়ে চলে যায়। চোখের সামনে এমন ঘটতে দেখে স্থির থাকতে পারেননি বিকাশ। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে কাছাকাছি থানায় খবর দেন। তাঁর কথা শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেনি পুলিশ। ধাওয়া করে ট্রাকটিকে।
মানকর রোডের অভিরামপুরের কাছে ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশ। ভিতরে মহিলা তখন চিৎকার করে কাঁদছিলেন। ট্রাক চালককে পাকড়াও করে মহিলাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ট্রাক চালকের নাম আবুল শেখ। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কুলসোনা গ্রামের বাসিন্দা। মুর্শিদাবাদ থেকে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক নিয়ে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল ট্রাকটি।
সিভিক ভলান্টিয়ার বিকাশ গড়াইকে পুরস্কার দেওয়ার কথা ভেবেছে প্রশাসন। বিকাশ জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কর্তব্যের জন্য নয় একজন মানুষ হিসেবেও ওই মহিলাকে উদ্ধার করা তাঁর দায়িত্ব ছিল, তিনি সেটাই করেছেন। শুধুমাত্র আইনের কড়া পাশেই এমন ঘৃণ্য অপরাধকে দমন করা সম্ভব নয়, চোখের সামনে এমন পরিস্থিতি দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকেই। তাহলেই হয়তো মান বাঁচবে আরও অনেক নারীর।