দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবরুদ্ধ বললেও যেন কিছুই বলা হয় না। গোটা কলকাতা শহর যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বহু রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ।
গোটা শহরে অন্তত কয়েক হাজার উপড়ে পড়েছে বা তার ডাল ভেঙে পড়েছে। কোথাও বাস-মিনিবাসের উপর গাছ ভেঙে পড়েছে তো, কোথাও ভেঙে পড়েছে পাঁচিল বা বাড়ির উপরে। জল থই থই শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। এমনকি কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়েতেও জল জমে রয়েছে। হ্যাঙারে থাকা বিমানের টায়ার অবধি জলে ডুবে গিয়েছে।
https://twitter.com/ANI/status/1263340196470259713?s=20
এ সবের সঙ্গেই বিপদ বাড়িয়েছে, যেখানে সেখানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকা। তাতে অনেকেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। সকাল থেকে অন্তত ৬-৭ জনের এভাবেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে গোটা শহর যেন শুধুই ধ্বংসস্তুপের চালচিত্র।

এ ছবি শেষ কবে দেখা গিয়েছে কলকাতায় মনে করতে পারছেন না কেউই। এর আগে, আয়লা, বুলবুল, ফণীর মতো ঝড় কলকাতাকে ধাক্কা দিলেও এমনটা কখনও হয়নি। বিশেষ করে বুলবুল বা ফণীর সময় এর একশো ভাগের এক ভাগ ক্ষতিও বোধহয় হয়নি।
পুলিশ ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতা শোভাবাজার, বাগবাজার, বেলগাছিয়া চত্বরে গলিতে গলিতে গাছ পড়ে রয়েছে। বহু জায়গায় বিদ্যুৎ ও কেবলের তার ছিঁড়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপন, দোকানের হোর্ডিং, গ্লো সাইন উড়ে গিয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট যেন ধ্বংসস্তুপের আকার নিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতারও তথৈবচ অবস্থা। গড়িয়াহাট, সাদার্ন অ্যাভেনিউ, টালিগঞ্জ, যাদবপুর এলাকায় বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়ার সরণি এলাকারও চেহারা মোটামুটি সেরকমই। এতটাই খারাপ যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পার্ক স্ট্রিটে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

একে তো গাছ, খুঁটি পড়েছে, তার উপর বড় সড়ক থেকে শুরু করে বহু ছোট গলিতে এতো জল জমে রয়েছে যে পথ চলাই দায়। কলকাতায় এখন এমনিতেই বেসরকারি বাস চলছে না করোনা সতর্কতায়। সরকারি বাসও এদিন চলেনি বললেই চলে। তা ছাড়া অধিকাংশ রাস্তা অবরুদ্ধ বলে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।
রাস্তাঘাটের এই অবস্থার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে তুলেছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ দশা। গতকাল বিকেলের পর থেকে ভোডাফোনের নেটওয়ার্ক বহু জায়গায় কোনও কাজ করছিল না। এয়ারটেলের সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেট কানেকশন ছিল অতি দুর্বল। তা ছাড়া বহু জায়গায় তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটিও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আসেনি।

এসবের সঙ্গে বড় অসুবিধা হল শহরে কিছু জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এখনও লোডশেডিং চলছে বহু জায়গায়। আলো নেই, জল নেই। লিফ্ট চলছে না।
সব মিলিয়ে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মহানগরী। পুলিশ ও পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে। তবে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা বিশেষ নেই। রাস্তাঘাট পুরোপুরি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও একদিন সময় লাগবে।