দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনসেফেলাইটিস ও ডেঙ্গির সংক্রমণ ছিলই। তার উপরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ল দুই শিশুর শরীরে। ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে দুই শিশুর চিকিৎসা চলছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, একজনের শরীরে ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম ছিল, সেই সঙ্গেই করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অন্য আর একটি শিশুর এনসেফেলাইটিসের চিকিৎসা চলছিল। তার শরীরেও ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। তবে দু’জনের শারীরিক অবস্থাই এখন স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। বিপদের সম্ভাবনা নেই।
ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ (আইসিএইচ) সূত্রে জানানো হয়েছে, দিন কয়েক আগে প্রবল জ্বর নিয়ে একটি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। গোড়ায় স্ক্রাব টাইফাসের সংক্রমণ মনে দু’বার টেস্ট করানো হয়। পরে দেখা যায় শিশুটি ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। টেস্ট করাতে গিয়ে ধরা পড়ে করোনাও। ডাক্তাররা বলছেন, ডেঙ্গির সঙ্গে কোভিডের জোড়া সংক্রমণ খুব একটা দেখা যায় না। এই শিশুটির যে রোগ হয়েছে তাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম উইথ করোনা’।
ডেঙ্গির সবথেকে মারাত্মক পর্যায় হল এই ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম। ডেঙ্গিও আরএনএ ভাইরাসের সংক্রমণেই হয়। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম হলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। পালস রেট বাড়ে, রক্তচাপও কমে যায়। সেই সঙ্গে করোনা ধরা পড়লে তার উপসর্গও দেখা দেয়। আইসিএইচের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ডেঙ্গির সংক্রমণ সেরেছে শিশুটির। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন অনেক স্থিতিশীল। স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আইসিএইচেই এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয় একটি শিশু। তার শরীরেও করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই শিশুটিকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ আর নেই। কোভিড চিকিৎসার জন্য তাকেও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথেই আরও একটি শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছে। শিশুটি হলদিয়ার বাসিন্দা। যে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটা হল, শিশুটির মায়ের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ওই মহিলা উপসর্গহীন বা অ্যাসিম্পটোমেটিক ছিলেন। তাই শুরুতে বোঝা যায়নি। কিন্তু যেহেতু শিশুটির শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নেই, তাই ওই শিশু ও তার মাকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই মহিলা ও শিশুর পরিবার লকডাউনের কারণে হলদিয়া থেকে কলকাতায় আসতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়েই শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গেই হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এর ফলে শিশুটির শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা স্বাস্থ্যভবনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।