
শেষ আপডেট: 21 December 2022 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: শিক্ষামন্ত্রীর ( Education Minister ) উপস্থিতিতেই ধুন্ধুমার বাঁধল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ( Uttarbanga University) । ব্রাত্য বসুকে ( Bratya Basu ) ঘিরে চলল বিক্ষোভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেসরকারি হাতে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও মঞ্চের আন্দোলন চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। তারই মধ্যে একাধিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি৷ সে সময় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও মঞ্চের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচির জন্য মাইক লাগানোর কাজ চলছিল।
মঞ্চের অভিযোগ, এই সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা তাঁদের উপর আচমকা হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও কমিটির এক ছাত্র হামলায় গুরুতর জখম হন। আহত ছাত্রের নাম অভিজিৎ সান্যাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা সেখানে পৌঁছলে তাঁদের সঙ্গেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বচসা বাঁধে।
'অনেক কাকাতুয়া আছে, তারা অনেক বকবে,' ইডি-কে গ্রুপ ডি দুর্নীতির তদন্তভার দিয়ে মন্তব্য বিচারপতির
আহত ছাত্র অভিজিৎ বলেন, “আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি ছিল। তাই প্রশাসনিক ভবনের সামনে মাইক বাঁধার কাজ চলছিল। তখন নিরাপত্তারক্ষীরা জানান মাইক বাঁধার কোনও অনুমতি উপাচার্য দেননি৷ আমরা তাঁর কাছে সেই নির্দেশের কপি দেখতে চাইলে বচসা বাঁধে। হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত না হয়েও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা মিঠুন বৈশ্য বাইরে থেকে এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। আমার মুখে, বুকে লাথি, ঘুষি চালাতে থাকে৷ অবশেষে অধ্যাপকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যকারী সভাপতি মিঠুন বৈশ্য বলেন, “এগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওঁরা জানেই না কেন আন্দোলন করছেন। কোথায় কী মারপিট হয়েছে তা আমি জানি না। শিক্ষামন্ত্রীর একাধিক অনুষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর দিকেই আমাদের নজর।”
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর সমর বিশ্বাস বলেন, “প্রায় ২০০ কোটি টাকার জমি বেসরকারি হাতে আমরা তুলে দিতে দেব না। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বাইরের ছেলেরা এসে ঝামেলার সৃষ্টি করছে। এই সমস্ত কিছু হচ্ছে বর্তমান উপাচার্য ওমপ্রকাশ মিশ্রের নির্দেশে। আমাদের ধারণা শিক্ষামন্ত্রী এই বিষয়ে সব কিছু জানেন না। আমরা তাঁর কাছে সব খুলে বলব।” পাশাপাশি উপাচার্যকে অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই বিক্ষোভ দেখায় বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও মঞ্চের ছাত্র-ছাত্রী ও অধ্যাপকরা। প্রশাসনিক ভবনে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ক্যাবিনেটই শেষ সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে এটুকু আমি বলতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দেওয়া হচ্ছে না। আর বেসরকারিকরণও হচ্ছে না, এটা সরকারেরই একটি দফতর থেকে আরও একটি দফতরে যাচ্ছিল। তবে পর্যটন বিভাগ অন্যত্র জমি নেবে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আমি অবশ্যই দেখা করব।” তবে মারপিট বা ঝামেলা এগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।