দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফান চলে যাওয়ার পর সাত দিন হয়ে গেল আজ মঙ্গলবার। কিন্তু এখনও কলকাতা-সহ দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জেলায় বিভিন্ন অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। সিইএসসি-র অন্তত এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না এত দিন ধরে। এই পরিস্থিতিতে সব গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করতে আর কত দিন সময় লাগবে, এই প্রশ্নের উত্তরের দিকেই তাকিয়ে সকলে। কিন্তু মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকের পরেও সে প্রশ্নের উত্তর মিলল না।
সিইএসসি কর্তৃপক্ষ এদিন জানান, তাঁরা পরিষেবা সচল করার সব রকম চেষ্টা করছেন। কিন্তু কত দিনে সে চেষ্টা সফল হবে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্যই করেননি তাঁরা। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ ঘোষ বলেন, “কর্মীদের নিরাপত্তার কথাও মাথায় রাখতে হয়। তাই কিছুটা সময় বেশি লাগে বিপর্যয়ে। ঝড়ের কারণে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সিইএসসি-র গ্রাহকের সংখ্যা ৩৩ লক্ষ। এক লক্ষ গ্রাহকের এখনও অসুবিধা হচ্ছে। আমরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করে চলেছি। আর একটু সহযোগিতা করুন।”
সিইএসসির দাবি, ৯৭ শতাংশ সংযোগ ইতিমধ্যেই ফেরানো হয়েছে। তাঁরা বলেন, "আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সবরকম ভাবে। এটাই আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুবত্বপূর্ণ বিষয়। ১৫০টা দল কাজ করছে দু'বেলা। কর্মীদের সংখ্যাও বাড়িয়েছি। রাজস্থান থেকেও বিশেষ কর্মীরা এসেছেন।”
সিইএসসি-র তরফে শনিবার জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবারের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে তাদের। সোমবার জানানো হয়েছিল, সব ঠিক হতে আর এক দিন বেশি, অর্থাৎ বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলের সাংবাদিক বৈঠকে সবটাই যেন আবার আঁধারে চলে গেল। আর কোনও সম্ভাব্য দিনও জানা গেল না।
এদিন বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকেও বিদ্যুতের এই সমস্যার কথা আলোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনিও জানিয়েছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন রাজ্য সরকারের কর্মীরা। দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম শহরতলিতে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা মোটেই পর্যাপ্ত হচ্ছে না। ফলে কলকাতা, হাওড়ার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও তা টেম্পোরারি তথা অস্থায়ী সংযোগ। বাসিন্দাদের বক্তব্য, মৌখিক ভাবে সিইএসসি কর্মীরা জানিয়ে গিয়েছেন, এখনই যেন ফ্রিজ, এসির মতো বৈদ্যুতিন যন্ত্র না চালানো হয়। কলকাতা পুরসভার অনেক ওয়ার্ডে এখনও কারেন্ট নেই। বেহালার শীল পাড়া, পর্ণশ্রী, সখেরবাজার, সরশুনা, ঠাকুরপুকুরের মতো জায়গার বিভিন্ন অংশে ঝড়ের বিকেল থেকে বিদ্যুৎ নেই। মঙ্গলবার দুপুর দুটো পর্যন্ত ওই সব এলাকায় যায়নি সিইএসসির টিম। কারেন্ট নেই বাইপাস লাগোয়া অনেক এলাকাতেও।
উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া, শ্যামবাজার, টালা পার্ক, কাশীপুরের মতো এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে অস্থায়ী সংযোগ দিয়েছে সিইএসসি। যাতে লাইট, পাখা চললেও বাকি আর কিছুই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। টেম্পোরারি সংযোগ দেওয়ার কারণে বহু আবাসনে মোটর চালিয়ে জল তোলার উপায় নেই। তাই কারেন্ট এলেও জলের কষ্ট রয়েই গিয়েছে শহরের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে।
এই পরিস্থিতিতে সাংঘাতিক সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন রোগীরা। বহু ক্যানসার রোগী, কিডনির অসুখে আক্রান্ত, হৃদরোগীদের জীবন সংকট তৈরি করে দিয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিদ্যুৎ ও জলসংকট।