দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনকে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে শুক্রবার রাজ্যসভার অধিবেশনে এই প্রস্তাব আনা হবে।
কেন?
এদিন রাজ্যসভার অধিবেশনে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে গিয়েছিল। গতকালই জানা গিয়েছিল, পেগাসাস বিতর্ক নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সরকারের বক্তব্য জানাবেন নতুন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ। কিন্তু বৈষ্ণ বিবৃতি পড়ারই সুযোগ পাননি। তিনি উঠে দাঁড়াতেই বিরোধীরা ওয়েলে নেমে পড়েন। তার পর সেই হট্টগোলের মধ্যে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন মন্ত্রীর বিবৃতি কেড়ে নেন। তার পর তা ছিঁড়ে ডেপুটি চেয়ারম্যানের আসনের দিকে ছুড়ে দেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আগামী কাল পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংসদের বাদল অধিবেশন প্রথম দিন থেকেই অগ্নিগর্ভ। উচ্চকক্ষে একদিন ১২টা এবং একদিন দুটো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছিল। আজ যা পরিস্থিতি হয় তাতে একেবারে আগামী কাল পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা করা হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, তৃণমূলের ওই সাংসদ গুণ্ডামি করেছেন অধিবেশনে। সংসদটা অসভ্যতার জায়গা নয়। উনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিবৃতি ছিনিয়ে তা ছিঁড়েছেন, তারপর তা ডেপুটি চেয়ারম্যানের দিকে ছুড়েছেন। এর থেকে নিন্দনীয় আর কী হতে পারে।
পুরী আরও বলেছেন, বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধীরা আলোচনা বন্ধ রাখতে চাইছে। এমন প্রশ্ন তুলছে অথচ জবাব শোনার মতো সৎ সাহস দেখাচ্ছে না। কিন্তু এদিন সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।
শান্তনু অবশ্য হরদীপ সিং পুরীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, সভা মুলতবি হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎই হরদীপ পুরী আমাকে অভদ্র ভাবে ডাকেন। আমি তাঁর কাছে যাওয়ার পর হুমকি দিতে শুরু করেন। আমাকে গালিগালাজ করেন। এমনকি হামলারও চেষ্টা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে পুরো ঘিরে ফেলা হয়েছিল। সহকর্মীরা সেটা দেখতে পেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”