
শেষ আপডেট: 7 July 2023 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত পোহালেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election 2023)। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট (Central Froce in Panchayet Election 2023) করানোর নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত আরও বলেছিল, প্রতি বুথে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে সমান অনুপাতে। কিন্তু বাস্তবে কি সেই চিত্র দেখা যাবে, প্রশ্ন জাগছে সাধারণ মানুষের মনেই!
সুষ্ঠু ও অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (State Election Commission) কাছে। ভোটের দিন অশান্তি এড়াতে একাধিক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছে কমিশন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, (Control Room) যাতে কোনওরকম অশান্তির খবর জানাতে পারেন। কমিশন দফতরেই ফোন করা যাবে সরাসরি। এই জন্য একাধিক নম্বরও প্রকাশ করেছে কমিশন। এমনকী টোল ফ্রি নম্বরও চালু করা হয়েছে।
কমিশনের এই কন্ট্রোল রুমে সমানে বেজে চলেছে ফোনগুলি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনের অফিসাররা সেই ফোন তুলছেন, শুনছেন সাধারণ মানুষের অভিযোগের কথা। সূত্রের খবর, ফোনের ওপার থেকে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু এইসব অভিযোগের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায়? এলাকায় তো দেখা যাচ্ছে না জওয়ানদের?
তারপরই কমিশন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নির্বাচনের জন্য মাত্র ২২ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে পাঠায়। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সামান্য বাহিনী দিয়ে ভোট করানো যাবে না। ২০১৩ সালের নির্বাচনের থেকেও বেশি বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে।
হাইকোর্টের সেই পর্যবেক্ষণের পরেই কমিশন আরও ৮০০ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে পাঠায় কেন্দ্রের থেকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক প্রথমে জানায় তারা ৩৩৭ কোম্পানি বাহিনীর বেশি দিতে পারবে না। সেই নিয়ে বিস্তর ডামাডোল চলে। কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মধ্যে চিঠি-চাপাটি চলেছে। জানা যায়, শেষে কমিশনের আবেদন মতোই বকেয়া ৪৮৫ বাহিনী পাঠাবে কেন্দ্র।
এরপরই আদালত জানায়, প্রতি বুথে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সমান অনুপাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিন্যাস কীভাবে করা যায় সেই পুরো বিষয়টা দেখবেন বিএসএফ আইজি। কিন্তু সূত্রের খবর বিএসএফ কর্তা কমিশনকে জানিয়ে দেয়, এভাবে প্রতি বুথে বা একজন বা দু’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না।
সূত্রের খবর, ৮২২ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৮০ শতাংশ বাহিনী এসে পৌঁছনোর কথা। অর্থাৎ ৬৫০ থেকে ৭০০ কোম্পানির বেশি ফোর্স শুক্রবারের মধ্যে এসে পৌঁছনোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শনিবার নির্বাচনে সব জায়গায় বাহিনী থাকবে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে না, বিএসএফ কর্তারা দুম করে বেঁকে বসলেন কেন!