দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ সালের ৯ মাস খেয়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। বছরের শেষে মানুষ একটু আনন্দ করবে, তাও ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন এসে হাজির। এ সবের মাঝে বাংলার রাজনীতি কিন্তু বহমান ও চলমান। তার বাইরের স্রোত দেখা যাচ্ছে, অনেকে বলছেন, ভিতরেও স্রোত বইছে একাধিক। বিষ্যুদবার নতুন সংযোজন হল, কয়লা, গরু পাচার কাণ্ড নিয়ে সিবিআই তল্লাশি প্রসঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
• বাংলায় বিরোধীদের বরাবরের অভিযোগ, পুলিশ দিয়ে বিরোধীদের দমন করে রাজ্যের শাসক দল, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, থানার ওসি-আইসিদের দিয়ে নিচুতলার নেতাদের ধমকানো চমকানো এ সব এখন জলভাত।
• বিষ্যুদবার সিবিআই তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল মুখপাত্র তথা পূর্ব বর্ধমানের জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, “শিবসেনা, শিরোমণি অকালি দলের মতো একের পর এক শরিক ছেড়ে যাচ্ছে বিজেপিকে। সিবিআই, ইডি, আইটি এখন বিজেপির নতুন শরিক হয়েছে।” তা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগে বলেছেন, এজেন্সি দিয়ে পুলিশ, আমলা, নেতা, বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
• বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, “বাংলার এক পাওয়ার ব্রোকার বিনয় মিশ্রর ডেরায় সিবিআইয়ের তল্লাশির পর উচ্চ পদাধিকারীদের জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও ভাইপোর শিবিরে থড়হরি পড়ে গেছে। রাজ্যে এটা এখন আলোচনার বিষয়”। তাঁর দলের মুখপাত্রদের কথায়, রাজনৈতিক অভিযোগ তুললেই কি অপরাধ মাফ হয়ে যায়। কারা গরু, কয়লা, বালি পাচারে যুক্ত মানুষ জানে। কুমীরের কান্না দিয়ে অপরাধ ধোয়া যাবে না।
• প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, “আমি তো বলেছি, সাপুড়ে সাপের কামড়েই মরবে। বাংলায় তৃণমূলই অনাচারের পথ দেখিয়েছে। পুলিশ দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয় দেখিয়েছে, দল ভেঙেছে, এ বার ঠ্যালা সামলাক। আমার কথা হল, কেউ চুরি না করলে ভয় পাবে কেন?”
• বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের কথায়, আমরা চাই চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ হোক, দোষীরা শাস্তি পাক, গরিব মানুষ তাদের কষ্টার্জিত আমানত ফেরত পাক। চোরেদের প্রতি কোনও সহানুভূতি আমার নেই।
• বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “অনেক দিন আগেই তোলাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ঘুম তখন ভাঙেনি। এখন তারা নেমেছে। তবে তাতে তোলাবাজ, রাজনীতিকে মাফিয়ারাজে পরিণত করার কারবারীদের অপরাধ লঘু হয়ে যায় না। আজ না হোক কাল ব্যবস্থা হবেই।”