
শেষ আপডেট: 25 March 2022 06:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামপুরহাট-কাণ্ডে সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ। সিবিআইকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিন শুনানি শেষে রায় দেওযার সময়ে আদালত মন্তব্য করে, "রামপুরহাটের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হৃদয়গ্রাহী। জনমানসে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে এই ঘটনা। আইনের ওপরে মানুষের আস্থা রাখতে উপযুক্ত তদন্তের প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়। তাই আদালত জনমানসে প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিল।
রামপুরহাট-কাণ্ডে গত কয়েক দিন ধরেই রীতিমতো সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। মামলাও দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে (High Court)। কাল, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে।
শুনানির শুরুতেই আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও সিসিটিভি লাগানো হয়নি এলাকায়। অথচ তার আগেই যেখানে তদন্ত চলছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করে দিয়েছেন। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে। শুনানির সময় নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে সওয়াল করেন আইনজীবী রবি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। বগটুইয়ের ঘটনাতেও সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিক আদালত।
গতকাল, প্রাথমিক ভাবে রাজ্য সরকারকে তদন্তের একটা সুযোগ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত বলে, রাজ্যকে একটা সুযোগ দেওয়া হবে। দ্রুত তদন্ত করে সত্যিটা সামনে আনা দরকার। সেই সঙ্গে এও নিশ্চিত করতে হবে ঘটনাস্থল থেকে কোনও তথ্যপ্রমাণ যেন নষ্ট না হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলিতে সব কোণ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। সেই নজরদারি চলবে সর্বক্ষণ। সিসিটিভি ক্যামেরায় যাতে পর্যাপ্ত মেমরি থাকে তা নিয়েও সতর্ক করে দেয় উচ্চ আদালত। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ ছাড়া ক্যামেরা বন্ধ করা যাবে না বলেও জানায়। জেলা আদালতের বিচারকের নজরদারিতে সিসিটিভি মনিটরিং করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। একদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা করতে হবে বলেও জানায় আদালত।
আবেদনকারী পক্ষ যদিও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় ছিল। আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, রাত সাড়ে ৮টায় উপপ্রধান খুন হন। রাত ন'টা নাগাদ সমর্থকদের থানা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল। ৫০০ মিটারের মধ্যে রামপুরহাট থানা, তাদের ফোনে জানানো সত্ত্বেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও পর্যন্ত সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। আইনজীবীর দাবি, শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। এলাকার দখল নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ হচ্ছে অবৈধ বালি খাদান ও পাথর খাদানে তোলাবাজি।
গতকাল শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। আজ, শুক্রবার সকালেই রায় ঘোষণা হল হাইকোর্টে। সিবিআই (CBI) তদন্তেরই নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ।
বগটুইয়ে গ্রেফতার আরও এক! আনারুলের পরে পুলিশের জালে নিহত ভাদুর আত্মীয়