
শেষ আপডেট: 10 April 2023 07:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে (Recruitment Scam) সিবিআই ও ইডি সমান্তরাল ভাবে তদন্ত করছে। যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেকটাই। সেসবকে এক সুতোয় বাঁধতে সিবিআই (CBI) এবার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Special Task Force) গড়তে চলেছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, টাস্ক ফোর্স গড়ার জন্য ৭ জন অফিসারকে সিবিআইয়ের বিভিন্ন জোন থেকে আনা হচ্ছে। তাঁরা ২ মাস বাংলায় থাকবেন। এবং নিয়োগ দুর্নীতির ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, ঠিক যে ২ মাসের জন্য ৭ অফিসারকে আনার ব্যাপারে খবর ছড়িয়েছে তখন ঘটনাচক্রে বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন। টাস্ক ফোর্স গড়ার সঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটের আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা সে ব্যাপারেও জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

গত আট-নয় বছর ধরে বাংলায় বিভিন্ন বিষয়ে সিবিআই তদন্তের যে নজির দেখা গিয়েছে তা হতাশাজনক বলেই মত অনেকের। চিটফান্ড কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান। সেই মামলাতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিক্ষাক্ষেত্রে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে তার বহুগুণ বেশি অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি হয়েছিল চিটফান্ড কাণ্ডে। লক্ষ লক্ষ মানুষের টাকা ডুবেছে ওই কেলেঙ্কারিতে। কিন্তু ওই ঘটনায় মরশুমি গ্রেফতার ও তৎপরতা ছাড়া কিছুই দেখা যায়নি। উনিশের লোকসভা ভোটের আগে পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকে জেরা করতে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত চলে গিয়েছিল সিবিআই টিম। তবে ভোট মেটার পরই সব দৃশ্যত ঠাণ্ডা ঘরে চলে যায়।
সে তুলনায় অবশ্য নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত ব্যতিক্রম। কারণ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে সিবিআই ও ইডি তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তে কোনওরকম ঢিলেমি দেখলেই বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। প্রভাবশালীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে তদন্ত এজেন্সি যাতে ইতস্তত না করে সে ব্যাপারেও সজাগ রয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
অনেকের মতে, আদালতের নির্দেশে তদন্তে গতি আনতে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হলে তা ইতিবাচক হবে বইকি। সে ক্ষেত্রে প্রত্যাশা থাকবে তদন্তের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। আরও অভিযুক্ত গ্রেফতার হবে।
কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির কাজের ধরন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল। তাঁদের মতে, আদালতে এজেন্সির আইনজীবী যে ধরনের কথা বলছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটা ধারণা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীর সাজা পাওয়া নিয়ে তৃণমূলের আপত্তি নেই। কাউকেই আড়াল করতে চায় না দল। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ক্রমশ প্রকটভাবে ধরা পড়ছে।
রিষড়ার পর জামশেদপুরও, ১৪৪ ধারা জারি, ইন্টারনেট বন্ধ, গোষ্ঠী সংঘর্ষ থামাতে ধরপাকড়