
শেষ আপডেট: 8 August 2023 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলার জন্য তাঁকে ‘চাপ’ দিচ্ছে ইডি, সিবিআই।’-- গোড়া থেকেই এই অভিযোগ করে আসছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh)। এর পরে, সোমবার আলিপুরের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে ঢোকার সময় কুন্তল হাতের একটি খাম দেখিয়ে দাবি করেন, 'ইডি আমাকে দিয়ে একের পর এক মিথ্যে কথা বলিয়েছে। এই খামের মধ্যে সেই সব তথ্য রয়েছে।'
এসবের মধ্যেই আজ, মঙ্গলবার কুন্তল ঘোষ ও তাপস মণ্ডলের (Tapas Mondal) বিরুদ্ধে সিবিআই ২৪ পাতার চার্জশিট (CBI Chargesheet) দাখিল করল। সূত্রের খবর, চার্জশিটের পাতায় পাতায় রয়েছে বিস্ফোরক তথ্য।
তাপস ও কুন্তলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি-বিক্রির এজেন্ট ও চাকরিপ্রার্থী মিলিয়ে মোট ১৪১ জনের কাছ থেকে ৪ কোটি ১২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তাপস মণ্ডল। বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ সংগঠন, ‘অল বেঙ্গল টিচার্স ট্রেনিং অ্যাচিভার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা তাপস। তদন্তকারীদের ধারণা, এই কলেজগুলিতে সহজেই চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে টোপ ফেলতেন দালালেরা। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চলত বেআইনি নিয়োগ।
আজ সিবিআই-এর চার্জশিটেও উল্লেখ রয়েছে, চাকরি বিক্রি করে মুর্শিদাবাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে মোট ২৩ লক্ষ টাকা নেন তাপস মণ্ডল। গতকাল ঘুষ দিয়ে চাকরি কেনার অভিযোগে চার শিক্ষককে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। তাঁদের মধ্যে থাকা সায়গল হোসেন নাকি তাপসকে দিয়েছিলেন ৬ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে জাহিরুদ্দিন শেখ ও সৌগত মণ্ডল দিয়েছিলেন সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা করে এবং ধৃত সীমা হোসেন চাকরি কিনতে ৫ লক্ষ টাকা দেন তাপস মণ্ডলকে। চার্জশিটের প্রথমেই নাম রয়েছে আশিক আহমেদের, তবে তঁকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি সিবিআই।
অন্যদিকে, যুবনেতা কুন্তলও চাকরি বিক্রি করে ৭১ জনের কাছ থেকে মোট ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে উঠেছে অভিযোগ। এর আগে তাপস মণ্ডলও তাঁর নাম তুলেছেন। দাবি করেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নাম ভাঙিয়ে কুন্তল যে টাকা তুলেছে সেই টাকা হাওয়ালায় খাটাচ্ছে। জেলে বসে টাকা খাটাচ্ছে।”
গতকাল, সোমবার সমন পাঠিয়ে মুর্শিদাবাদের চার শিক্ষককে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে তলব করা হয়। তারপর আদালত কক্ষ থেকেই গ্রেফতার করে তাঁদের জেলে পাঠান বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়। সিবিআই-এর চার্জশিটেও নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সাক্ষী হিসাবে নাম ছিল গ্রেফতার হওয়া ওই চার অযোগ্য শিক্ষকের। কিন্তু টাকা দিয়ে চাকরি কেনা শিক্ষকরা সাক্ষী হতে পারেন না, এই দাবি করে তাঁদের জেল হেফাজত দেন বিচারক। তদন্তকারী অফিসারকে শোকজও করেন। ২১ অগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই চার শিক্ষককে।
চার জন শিক্ষক জেলে গেছেন, সিবিআই আরও ৭ জনকে ডেকে পাঠাতেই থরহরি বাঁকুড়ায়