দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের শিশুও রেহাই পেত না তার হাত থেকে। গত দশ বছর ধরে ৫০ জনের বেশি শিশু, কিশোর-কিশোরী তার যৌন লালসার শিকার হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও অনলাইনে আপলোড ও বিক্রি করা হত। শিশুদের নিয়ে নীল ছবি তৈরির বড়সড় চক্রের সঙ্গেও আঁতাত ছিল তার। বিকৃত মানসিকতার সেই যুবকের নাগাল অবশেষে পেল সিবিআই।
অনলাইনে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির যেসব ছবি ও ভিডিও আপলোড করেছিল ওই যুবক সেই সূত্র থেকেই তার পরিচয় বের করে সাইবার ক্রাইম শাখার গোয়েন্দারা। অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশ সরকারের সেচমন্ত্রকের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার। অভিযোগ, দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে আসছিল ওই যুবক। পাঁচ থেকে ষোলো বছর বয়সীরাই ছিল তার টার্গেট।
চিত্রকূট, বান্দা ও হামিরপুর—এই তিন জেলা থেকেই শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা চলছিল দীর্ঘ সময় ধরেই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভয় দেখিয়ে শিশুদের মুখ বন্ধ করে দিত অভিযুক্ত। লজ্জা ও আতঙ্কের কারণে অনেক পরিবারই সঠিক সময় অভিযোগ দায়ের করেনি। শেষে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তথা সিবিআই। বান্দা থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।
তদন্তকারী অফিসাররা বলেছেন, অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। আটটি মোবাইল ফোন, আট লাখ টাকার বেশি নগদ, সেক্স টয়, ল্যাপটপ, অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট উদ্ধার হয়েছে তার বাড়ি থেকে। শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের একাধিক ছবি, ভিডিও নিজের ঘরেই জমিয়ে রেখেছিল যুবক। বিপুল পরিমাণ চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটিরিয়াল উদ্ধার করেছেন অফিসাররা।
তদন্তকারীদের অনুমান, শিশুদের যৌন নির্যাতন করে সে ছবি বা ভিডিও তুলে রাখত অভিযুক্ত। তারপর সেগুলো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা রোজগার করত। অনলাইনে একাধিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি আপলোডও করেছিল। সে সব ভিডিও চড়া দামে বিক্রি করত কোনও চক্রের কাছে। সে চক্রের খোঁজও করছে পুলিশ।
আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই শিশু পর্নোগ্রাফি, শিশুদের উপর যৌন হেনস্থার ছবি, ভিডিও দেদাড় ঘুরছে অনলাইনে। সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা, পুলিশি ধরপাকড়, অনলাইন পর্ন সাইটে তালা ঝুলিয়েও লাভ হয়নি। সাইবার জগতের এই অন্ধকারময় অপরাধের তালিকায় কেরল রয়েছে সামনের সারিতে। পুলিশি তদন্তের রিপোর্টই বলছে, শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ণ, অত্যাচার, ধর্ষণের ছবি, ভিডিও তথা 'চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটিরিয়াল' (সিএসএএম) অনলাইনে আপলোড করা এবং শিশুদের নিয়ে নীল ছবি বানানোর বড়সড় চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের যোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। এর আগেও শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কেরল থেকে। 'পি-হান্ট ২০.১' অপারেশনে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি মেটিরিয়াল অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
'কাউন্টারিং চাইল্ড সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন টিম' তথা সিসিএসই-র অফিসাররা বলছেন, ভারতে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই বিভিন্ন সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে এই ধরনের ছবি ও ভিডিও আপলোড করার কাজ চলছে। কী ধরনের সফটওয়্যাল টুল ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। বেশ কিছু আইপি অ্যাড্রেস বার করা হয়েছে যেখান থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি মেটিরিয়াল অনলাইনে আপলোড হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িতরা ছড়িয়ে রয়েছে নানা রাজ্যেই।