
শেষ আপডেট: 22 July 2021 05:18
নারায়ণবাবুর লেখার স্বত্ব কার হাতে থাকবে তা নিয়ে মামলা চলছে। মামলা করেছেন নারায়ণবাবুর ছেলে তাপস দেবনাথ। মূলত রয়্যালটি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই এই মামলা। তবে এই মামলায় যুক্ত হয়েছে দীপ প্রকাশন।
ব্যাপারটা কী?
২০০০ সাল থেকে নারায়ণবাবুর লেখা ছাপে কলেজ স্ট্রিটের দেব সাহিত্য কুঠির। কিন্তু নারায়ণবাবুর ছেলে তাপস দেবনাথের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সংস্থা তাঁদের ঠকিয়েছে। নামমাত্র টাকা রয়্যালটি দিয়েছে।
নারায়ণবাবুর এখন প্রায় ৯৪ বছর বয়স। হাওড়ার বাড়িতে অসুস্থ অবস্থাতেই দিন কাটছে তাঁর। যদিও রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, বেলভিউ হাসপাতালে তাঁর সমস্ত চিকিৎসা করানোর বিষয়ে।
দেব সাহিত্য কুঠিরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিলই দেবনাথ পরিবারের। এর মধ্যেই দৃশ্যে প্রবেশ করে দীপ প্রকাশন। সংস্থার অন্যতম কর্তা শঙ্কর মণ্ডল দ্য ওয়াল-কে জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে তিনি নারায়ণবাবুর বাড়ি গিয়েছিলেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন, বিচার পাইয়ে দেবেন। আলিপুর আদালতে যে মামলা দায়ের করেছিলেন তাপস দেবনাথ, তাতেই পক্ষ হয় দীপ প্রকাশন।
তাপসবাবু জানিয়েছেন, দীপ প্রকাশন এই সময়ের মধ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা রয়্যালটি দিয়েছেন। কিন্তু এক লেখকের একই লেখা তো দুটি সংস্থা ছাপতে পারে না। তাহলে? আলিপুর আদালত অন্তর্বর্তী রায়ে জানিয়েছে, আপাতত দেব সাহিত্য কুঠির কোনও ভাবেই নারায়ণবাবুর লেখা ছাপতে পারবে না। বিক্রিও করতে পারবে না। যদিও দীপ প্রকাশনের উপর এমন কোনও নির্দেশ আরোপ করেনি আদালত। ফলে দীপ প্রকাশন তাদের ফেসবুক পেজেও দাবি করেছে, নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টি নন্টে ফন্টে, বাঁটুল দ্য গ্রেট, হাঁদা ভোঁদা—এসবের স্বত্ব এখন বইপাড়ায় শুধু তাদের।
যদিও এ ব্যাপারে দেব সাহিত্য কুঠিরের কোনও কর্ণধারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে। আগামী ২২ জুলাই ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। দীপ প্রকাশনের কর্তা শঙ্কর মণ্ডল বলেছেন, তাঁরা ওইদিন আদালতে আর্জি জানাবেন, দেব সাহিত্য কুঠির যাতে কোনও ভাবেই নারায়ণবাবুর লেখা বই ছাপতে না পারে সে ব্যাপারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। আদালত কী নির্দেশ দেবে তা বোঝা যাবে বৃহস্পতিবার। তবে তার আগেই অনলাইনে নন্টে ফন্টে, বাঁটুল দ্য গ্রেট, হাঁদা ভোঁদা বিক্রি শুরু করে দিয়েছে দীপ প্রকাশন।