
শেষ আপডেট: 27 July 2023 06:41
আট বছর ধরে কলকাতার সরকারি হাসপাতালে ক্যানসারের চিকিৎসা (Cancer Treatment) চলছে তাঁর। আগে হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে মিলত ওষুধ। তাতে কাজ না হওয়ায় চিকিৎসক ওষুধ বদলে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে থেকে একমাসের ওষুধ কিনতে গেলে লাগবে ১১ হাজার টাকা। ফলে টোটো চালিয়ে সংসারের খরচ বাঁচিয়ে ওষুধ কেনা আর সম্ভব হচ্ছে না বছর পঁচিশের যুবক মৃণাল বিশ্বাসের। তাই মাঝপথেই থমকে গেছে ব্লাড ক্যানসার আক্রান্ত মৃণালের চিকিৎসা। বাবার কষ্ট এখন ভাবিয়ে তুলছে ক্লাস ফাইভের ছাত্রী চন্দনাকেও। ছোট চন্দনা চায়, কোনও সহৃদয় ব্যক্তি তার বাবার চিকিৎসায় এগিয়ে আসুক। বাবা সুস্থ হয়ে উঠুক।
সুন্দরবনের (Sunderban) গোসাবা ব্লকের বালি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সত্যনারায়ণপুর গ্রামে মৃণালের বাড়ি। সেখানে এক চিলতে ঘরে বাবা-মা, স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে চন্দনাকে নিয়ে তাঁর সংসার। টোটো চালিয়ে যা উপার্জন করতেন, তাতে পরিবারের সকলের জন্য দু'বেলা ভাত জুটে যেত। সমস্ত কিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মৃণাল।
আট বছর ধরে কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগে সেখান থেকে বিনামূল্য ক্যানসারের ওষুধ পেতেন। বেশ কয়েক মাস আগে সেই ওষুধ আর তাঁর শরীরের কাজ করছিল না। আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন মৃণাল। সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানালে পুরনো ওষুধ বদলে নতুন ওষুধ লিখে দেন তাঁরা। সেই থেকেই লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যায় মৃণালের।
খোলা বাজারের চড়া দামে ওই ওষুধ বিক্রি হলেও সাপ্লাই নেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে। তাই ওষুধ কেনার জন্য জায়গা জমি যা ছিল, সেটা বিক্রি করে কয়েক মাসের ওষুধ জোগার করেছিলেন মৃণাল। এখন তিনি নিঃস্ব। টোটো চালিয়ে রোজগারের পয়সায় এখন আর ওই দামী ওষুধ কেনা আর তাঁর সাধ্য নেই। তাই মৃণালকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর পরিবার তাকিয়ে আছে সাহায্যের আশায়।
আরও পড়ুয়া: পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিক প্রেমিকাকে বেঁধে মার, কাকদ্বীপে হইচই