
শেষ আপডেট: 10 September 2022 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: হরিশ্চন্দ্রপুরের পর এবার আরও এক গ্রাম পঞ্চায়েতের (gram panchayat) দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (High Court)। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির (corruption) অভিযোগের তদন্ত করতে মালদহের (Maldah) জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পুকুর খনন ও রাস্তা তৈরি সহ একাধিক প্রকল্পে প্রায় ১২ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইংরেজবাজার ব্লকের ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রহিমা বিবির বিরুদ্ধে। পঞ্চায়েতের নির্দল সদস্য আরসি বিবির স্বামী আবদুল আরেফের অভিযোগ, এনআরইজিএস প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন তৃণমূল প্রধান। ভুয়ো স্কিম তৈরি করে একাধিক প্রকল্পের টাকা তুলেছেন। ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ করা হয়েছে রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের পুখুরিয়া এলাকায়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তার পাশাপাশি ২০০ মিটারের মধ্যে একাধিক কমিউনিটি টয়লেট, জলাধার, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে শুরু করে একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতি করেছেন তৃণমূল প্রধান। কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেন তিনি। সম্প্রতি হাইকোর্ট মালদহের জেলাশাসককে ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা জানান, তাদের নামে প্রকল্প এসেছে। সেই প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ তারা জানেন না। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নাম করে দশ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অথচ এখনও পর্যন্ত তাঁরা ঘর পাননি। রাস্তা হয়নি অথচ রাস্তার বরাদ্দ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশা এবার একটা বিহিত হবে।
পদ্মার ইলিশে বাজার ছেয়েছে, ধূপগুড়িতে কেনারই লোক নেই
মালদহ জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘যেখানে তৃণমূল সেখানেই দুর্নীতি। ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধেও সেই রকমই কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলকাতা হাইকোর্ট সেই দুর্নীতি তদন্তের জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।’’
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘‘মহামান্য আদালত দুর্নীতির তদন্তের জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত হোক। কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা। তবে আমার মনে হয় সঠিক তদন্ত হলে দুধ কা দুধ পানি কা পানি হয়ে যাবে।’’
ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে চাননি। প্রধানের স্বামী জাহিদুল সেখ জানান, মানুষের জন্য কাজ করেছেন তাঁরা। বিরোধীরা চক্রান্ত করে হাইকোর্টে মামলা করেছে উন্নয়ন বন্ধ করে রাখার জন্য।