দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল হতেই লোকগানের সুর হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। গলির মুখে গান ভেসে আসতেই একে একে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন বড়শুলের বাসিন্দারা। দুয়ারে রেশন বোধহয় একেই বলে, যাতে সব মানুষ ঠিক সময়ে পরিষেবা পান তার দায়িত্ব নিয়েছেন ডিলাররাই।
দুয়ারে রেশন নিয়ে গান বেঁধেছেন লোকসঙ্গীত শিল্পী মঙ্গল কালিন্দী। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁর উদাত্ত কণ্ঠ মানুষজনকে রেশনের চাল ডাল সংগ্রহ করতে ডাকে। কবে কোথায় দুয়ারে রেশন এসে ফিরে যাচ্ছে সে নিয়ে আর চিন্তা করতে হচ্ছে না পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দাদের।
একসময় রেশনকে বলা হতো কন্ট্রোল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এপার বাংলায় চালু হয়েছিল কর্ডনিং। সেই রেশনই এখন বাড়ির দরজায় দরজায় পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তবে কোথায় কবর রেশন দেওয়া হবে, অনেকসময়ই এলাকাবাসীরা জানতে পারেন না আগে থেকে। কিন্তু যদি গান গেয়ে জানান দেওয়া যায়? সেই ভাবনারই রূপায়ণ ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল এলাকায়।
এখন সকাল হতেই প্রভাতফেরির আবহ। গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে পায়ে হেঁটে গান গেয়ে চলেন মঙ্গল কালিন্দী, সঙ্গে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাঁটেন রেশন ডিলাররা।
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=57qHte4YBNU
গান শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। পস মেশিনে আঙুল ছুঁইয়ে ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন রেশন সামগ্রী। সেই অভিনব দৃশ্যই ইদানিং পরিচিত হয়ে উঠছে আশেপাশে।
দুয়ারে রেশনের গান শোনা যাচ্ছে, পূর্ব বর্ধমানের সদর ২ নম্বর ব্লকের ৬৬ নম্বর রেশন ডিলারের অধীন বামুপুকুর পাড়, বকুলতলা, তাঁতখন্ড, বড়শুল, অন্নদাপল্লি, পঞ্চায়েতপাড়া, ধর্মতলা এবং বাউরিপাড়া এলাকায়।
৬৬ নম্বর রেশন ডিলারের ভারপ্রাপ্ত কর্মী ভক্তিপদ হাজরা জানান, এতে সময়ও কম লাগছে। গান শুনলেই গ্রাহকরা কার্ড এর ব্যাগ নিয়ে দরজায় এসে দাঁড়াচ্ছেন।
এমন পরিষেবা পেয়ে স্বভাবতই খুশি বাসিন্দারা। গায়ক মঙ্গল কালিন্দীও এই কর্মযজ্ঞে সামিল হতে পেরে যার পর নাই তৃপ্ত। লোকসঙ্গীতের আদি অকৃত্রিম আবেদন যে সব সময় মানুষকে ছুঁয়ে যেতে পারে, নতুন করে বার্তা দিতে পারে তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল দুয়ারে রেশনের গান।