শেষ আপডেট: 22 May 2023 07:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাত থেকে ব্যপক ধরপাকড় চালিয়ে বেআইনি বাজি বিক্রির অভিযোগে বজবজের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Budgebudge blast police raid)। উদ্ধার হয়েছে ২০ হাজার কেজিরও বেশি বাজি। পুলিশের এই অভিযান ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনি বাজি তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে যারা বৈধ ব্যবসা করছেন তাদেরও হেনস্থা করছে পুলিশ (police)।
তখন অনেক বৈধ দোকানও ভেঙে দেয়। এমন ঘটনা আগে কখনও হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, আগেও এমন দুর্ঘটনা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু যাদের ব্যবসা বৈধ নয়, তাদের ধরা হয়েছে। কিন্তু এবার কোনও বাছবিচার করা হয়নি। রাতভর ভাঙচুর করা হয় বাজির দোকানগুলি। তাই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।

রবিবার সন্ধ্যায় চিংড়িপোতা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ছুটে আসেন এলাকার মানুষজন। তাঁরাই আহতদের উদ্ধার করে বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই পরে তিনজনের মৃত্যু হয়। এগরার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। এগরার খাদিকুল গ্রামে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন।
এগরার ঘটনার পরেই প্রশাসনিক নির্দেশে বেআইনি বাজি কারখানার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে অভিযান শুরু করেছিল পুলিশ। তারমধ্যেই রবিবার সন্ধেয় ফের বিস্ফোরণ। ডিএসপি (ইন্ডাস্ট্রিয়াল) নিরূপম ঘোষের নেতৃত্বে রবিবার রাত থেকেই মহেশতলা এবং বজবজ থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সমগ্র বাজিপাড়া জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। নিষিদ্ধ ও বেআইনি বাজি উদ্ধার করতে গিয়ে নুঙ্গি, বজবজ, মহেশতলা এলাকার বেশ কিছু দোকান পুলিশ ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ।
আর এই ঘটনাতেই সোমবার সকাল থেকে তেতে ওঠে এলাকা। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এলাকার মানুষ। সিপিএমের একটি প্রতিনিধিদল এলাকায় গেলে তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। বাধা দেওয়া হয় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরও। বাজি সংগঠনের নেতা কানাই দাসের দাবি, অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনা। সচেতনতার অভাবে ছাদে বাজি রাখা হয়েছিল।
বজবজে উদ্ধার ২০ হাজার কেজি বাজি! বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত ৩৪, বেআইনি কারখানা যেন কুটিরশিল্প