দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্কট কাটেনি। বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া এগারোটার বুলেটিনে উডল্যাণ্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুদ্ধদেব বাবুর রক্তচাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। হার্টের অবস্থাও খুব একটা খারাপ নয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর।
গতকাল থেকেই মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন বুদ্ধবাবু। আজও ভেন্টিলেশনেই রাখা হবে তাঁকে। বুধবার বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক মেকানিকাল ভেন্টিলেশনে রাখার পর তাঁর শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা ১৩১ থেকে কমে ৫০ হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, এখন বুদ্ধদেববাবুর শরীরে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমেছে একই সঙ্গে অক্সিজেন স্যাচুরেশন আগের থেকে বেড়েছে। এখন অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯২-৯৫ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ২৪ ঘণ্টাই পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে। প্রয়োজন হলে পরে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট থেকে বের করে আনা হবে।
বুধবার বুদ্ধদেববাবুকে যখন উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন তাঁর শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল মাত্র ৮৮। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় কম। তাই প্রথমে তাঁকে বাইপ্যাপ সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু তা অপর্যাপ্ত হচ্ছিল, তাই মেকানিকাল ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিতে হয়। ডাক্তাররা বলেছেন, এখন অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল অনেকটাই স্থিতিশীল। পালস রেটও স্বাভাবিক। অন্য কোনও সমস্যা আর দেখা যায়নি। হার্টের অবস্থাও ভাল বুদ্ধবাবুর।
গতকাল দুপুরে আচমকা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। চিকিৎসকরা তাঁর সিটি স্ক্যান করে বিকেলে জানিয়ে দেন, তাঁর করোনা হয়নি। তবে বুকে পুরনো নিউমোনিয়ার প্যাচ রয়েছে।
তাঁর ব্রেনের সিটি স্ক্যানও করা হয়। তাতে পুরনো ল্যাকুনার ইনফ্র্যাক্টস রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বুদ্ধদেববাবুকে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "উনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন, আমরা দেখলাম। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ শরীরে বেশি। উনি দ্রুত সেরে উঠুন।" তার আগে ফিরহাদ হাকিমও বুদ্ধবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যান হাসপাতালে। যান বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, সূর্যকান্ত মিশ্রও। সূর্যকান্ত মিশ্র জানান, অচেতন অবস্থায় রয়েছেন বুদ্ধবাবু, অবস্থা খুব একটা ভাল নয়।