
শেষ আপডেট: 6 May 2023 03:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডি কিংবা সিবিআই—গরু পাচার মামলার গোড়া থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি বলে এসেছে, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, বিএসএফ ও শুল্ক দফতরের কিছু কর্তার নিবিড় বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই এই কারবার চলেছে। অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে যে ২০৪ পাতার সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিট পেশ করেছে ইডি (ED Chargesheet) সেখানেও রয়েছে বিএসএফ যোগের কথা (BSF Link in Cow smuggling)।
ইডির চার্জশিটে বলা হয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচারের কোটি কোটি টাকার ব্যবসায় ফিনিশিং টাচ দিত বিএসএফ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বক্তব্য, রাত ১১টা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত সীমান্তের নির্দিষ্ট জায়গা হাট করে খুলে দিত বিএসএফ। তারপর পাচার চলত।
চার্জশিটে ইডি এও উল্লেখ করেছে, গরুর সংখ্যা ধরে গুণে নিয়ে তা বাবদ কমিশন যেত বিএসএফ কর্তাদের কাছে। অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে পুলিশ বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদে গরু বোঝাই ট্রাক পাঠাতে সাহায্য করত। সেইসব ট্রাকের চালকদের হাতে থাকত একটি নির্দিষ্ট ছাপ দেওয়া টোকেন। তা দেখেই পুলিশ বুঝে যেত ট্রাকে কী আছে, এই ট্রাকের অভিমুখ কী!
এ নিয়ে বিজেপির উদ্দেশে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘ইডি চার্জশিটে বিএসএফের কথা বলেছে। বিএসএফ চালায় কে? অমিত শাহ। তাহলে তাঁকে কেন এজেন্সি ধরছে না?’
বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার চোখা চোখা আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, গরু তো আর পিঁপড়ে নয় যে কাঁটাতারের নীচ দিয়ে গলে যাবে আর পাখিও নয় যে উড়ে যাবে—তাহলে পাচারটা হত কীভাবে?
বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারকে অনেক আগেই গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এখন তিনি তিহাড় জেলে রয়েছেন। তবে পাচার চক্রের মামলায় চার্জশিটে ইডি যে কথা লিখেছে তাতে সীমান্ত সুরক্ষা বল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই।