
শেষ আপডেট: 11 July 2019 14:25
পুলিশ জানিয়েছে, গাইঘাটা থানার আংরাইল সীমান্তে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-র কাছে আংরাইল সীমান্তে কিছুটা এলাকায় কাঁটাতার না থাকার সুযোগ নিয়ে, প্রায় ২৫ জন বাংলাদেশি পাচারকারীর একটি দল, ১০-১৫টি গরু পাচারের চেষ্টা করছিল বাংলাদেশে।
সেই সময় বিএসএফ-এর টহলদারি দল তাদের সতর্ক করে। বচসা শুরু হয়। আচমকাই বাংলাদেশি পাচারকারীরা বোমা ছুড়তে শুরু করে বিএসএফ কর্মীদের দিকে। সেই বোমার আঘাতেই গুরুতর আহত হন জওয়ান আনিসুর রহমান। যদিও এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বিএসএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে, পাচারকারীদের কাছে দিশি বোমা ছাড়াও আরও অনেক অস্ত্র (লাঠি, হাসিয়া, দাহাস, হাই বিম টর্চ) ছিল।
এ দিন পাচারকারীদের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখে আগেই তাদের সতর্ক করেছিল বিএসএফ। কিন্তু লাভ হয়নি। গরু পাচারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল পাচারকারী দল। প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকে ডিউটিতে থাকা জওয়ান আনিসুর রহমানের দিকে নজর রাখছিল তারা। উদ্দেশ্য একটাই। কোনওরকমে ফাঁকি দিয়ে বর্ডার পার করা। বিএসএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে আনিসুরের চোখে হাই ভোল্টেজ টর্চ মারে পাচারকারীদের কয়েকজন। জওয়ানের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার সময়েই বাকিরা একটি দিশি বোম মারে আনিসুরের গায়ে। মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছেন ওই জওয়ান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ঘনিয়েছে বিএসএফ-এর অন্দরে। উপরতলা থেকে সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনে গুলি চালানোর। আহত জওয়ান আনিসুরের একটি হাতের অংশ বোমায় উড়ে গিয়েছে। সারা শরীরে অসংখ্য মারাত্মক ক্ষত হয়েছে তার। নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে বিএসএফ। জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে, বড় আন্দোলনের পথে যাবে সেনা। যদিও এই ঘটনায় এখনও কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অনুমান, বাংলাদেশেই পালিয়ে গিয়েছে পাচারকারীরা।