
শেষ আপডেট: 6 July 2023 07:11
পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে এবার যেন একটা উপাখ্যান তৈরি হবে। যে উপাখ্যানের সবচেয়ে বড় চমক ও মোড় সম্ভবত লেখা হয়ে গেল বুধবার সন্ধেয়। বিএসএফ কর্তার কথামতো দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এক লাফে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হল। এই দ্বিগুণ করার পরতে পরতেও অনেক কিছু রয়েছে, যা কৌতূহল তৈরি করতে পারে। আবার বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো হল কোচবিহারে। যা কিনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ভাবে বাংলায় কিছু কথার প্রচলন রয়েছে। যেমন, বীরভূম মানেই এতদিন বলা হত অনুব্রত মণ্ডলের জেলা। পূর্ব মেদিনীপুর মানেই শুভেন্দু অধিকারীর জেলা। তেমন ভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বলতে মনে করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা। যেহেতু অভিষেকের নির্বাচন কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার এই জেলার মধ্যে পড়ে। আবার কোচবিহারের সাংসদ হলেন বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক।
তাই রাতারাতি অভিষেকের জেলায় ৩০ কোম্পানি ফোর্স বাড়িয়ে ৫৮ কোম্পানি করা হলে প্রশ্ন তো উঠবেই। একই ভাবে পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তিতে ক্লিষ্ট কোচবিহারে দুম করে ১২ কোম্পানি ফোর্স কমিয়ে দিলে বিষ্ময় জাগা অস্বাভাবিক নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল। এই বাড়ানো বা কমানো নিয়ে কিন্তু কোনও সংঘাত বা দ্বন্দ্ব হয়নি। বিএসএফ কর্তার পরামর্শ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মেনে নিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তাঁর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আর উঠছে না। তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করছেন বলেই খবর।
পঞ্চায়েত ভোটের জন্য ৮০০ কোম্পানির বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তার মধ্যে ৩৩৭ কোম্পানি ফোর্স এসে গেছে। বাকি ৪৮৫ কোম্পানি ফোর্স আজকালের মধ্যে ঢুকে যাবে। এই ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী কোথায় কত মোতায়েন করা হবে তা সাজিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, কোন বাহিনীর কত কোম্পানি কোথায় যাবে তাও ঠিক করে ফেলেছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজিীব সিনহা। যেমন, কোনও জেলায় ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী গেলে তার মধ্যে বিএসএফ কত কোম্পানি, কত কোম্পানি সিআরপিএফ বা কত কোম্পানি অন্য রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ যাবে তা কমিশন ঠিক করে ফেলেছিল। মঙ্গলবার সন্ধের মধ্যে সেই খসড়া চূড়ান্ত করেছিল কমিশন।
তাতে দেখা গিয়েছিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জন্য এই ৪৮৫ কোম্পানির মধ্যে ৩০ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। তার মধ্যে কোনও বিএসএফ বা সিআরপিএফের বাহিনী নেই। শুধু রয়েছে ২ কোম্পানি সশস্ত্র সীমা বল(এসএসবি), ১০ কোম্পানি পাঞ্জাব পুলিশ, ১৩ কোম্পানি বিহার পুলিশ, ৫ কোম্পানি ছত্তীসগড় পুলিশ।
ওই দিনই বিকেলে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ফোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসাবে কাজ করবেন বিএসএফের একজন আইজি পদমর্যাদার অফিসার। সেই নির্দেশ মোতাবেক বুধবার বিএসএফের স্পেশাল ডিজি জয়ন্ত কুমার সিং একটি ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান তৈরি করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে দেন। সেটা হুবহু মেনে নিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করেছেন।
বিএসএফ কর্তার এই প্ল্যানেই দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জন্য বাহিনী বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। আরও বড় কথা হল, এই ৫৮ কোম্পানি ফোর্সের মধ্যে সিআরপিএফ দেওয়া হয়েছে ৭ কোম্পানি, বিএসএফ দেওয়া হয়েছে ১৩ কোম্পানি এবং আরপিএফ ৫ কোম্পানি। সেই সঙ্গে ছত্তীসগড়, বিহার, পাঞ্জাবের সশস্ত্র পুলিশও রয়েছে।
আবার কোচবিহারে কমানো হয়েছে ১২ কোম্পানি ফোর্স। কমিশনের প্ল্যানে বলা হয়েছিল, নিশীথ প্রামাণিকের জেলায় ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে ২৮ কোম্পানি পাঠানো হবে। এর মধ্যে সিআরপিএফ থাকবে ১০ কোম্পানি আর বিএসএফ থাকবে ১৮ কোম্পানি। সেই প্ল্যান বিএসএফ কর্তা বদলে স্থির করেছেন, কোচবিহারে এই ৪৮৫ কোম্পানি ফোর্সের মধ্যে ১৬ কোম্পানি পাঠানো হবে। তার মধ্যে সিআরপিএফ দেওয়া হয়েছে ৫ কোম্পানি আর বিএসএফ দেওয়া হয়েছে ১১ কোম্পানি।
একই ভাবে পূর্ব মেদিনীপুর তথা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় ১ কোম্পানি ফোর্স কমানো হয়েছে। এই ৪৮৫ কোম্পানি ফোর্সের মধ্যে ওই জেলার জন্য কোনও বিএসএফ বা সিআরপিএফের কোম্পানি নেই।
আবার ৫ কোম্পানি বাহিনী বাড়ানো হয়েছে বাঁকুড়ায়। এবং ১০ কোম্পানি ফোর্স বাড়ানো হয়েছে হুগলিতে।
কমিশন সূত্রে খবর, এই ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান হলফনামা আকারে কলকাতা হাইকোর্টেও পেশ করা হবে।
নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় পতাকা অবমাননায় অভিযুক্ত তৃণমূল! মামলা দায়ের হাইকোর্টে