দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল এক বধূর, কিন্তু সকলের কাছ থেকে লুকিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর দেহ সৎকার করে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোক। তাতে মেয়ের স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছিলেন বধূর বাপেরবাড়ির লোকজন। এবার সেই মামলাতে আগাম জামিন চেয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্তরা। কিন্তু সরকারি আইনজীবীর বাধায় তাদের আগাম জামিন নামঞ্জুর করে দিল কাটোয়া আদালত। বুধবার মামলার শুনানি ছিল। মৃত বধূর মা আদালতে জানিয়েছেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলা আদালতে উঠেছে। মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁরও ধোঁয়াশা রয়েছে।
তবে, সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষালের যুক্তির জোড়েই আদালতে অভিযুক্তদের জামিন খারিজ হয়েছে যায়। আইনজীবীর বক্তব্য, ওই বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। একই সঙ্গে বাপেরবাড়ি ও পুলিশকে ধোঁয়াশায় রেখে দেহদাহ করে দিয়েছিল অভিযুক্তরা। তাতে বলা যায় যে, মৃত্যুর কারণ লোপাটের জন্য এই কাণ্ড ঘটিয়েছে মহিলার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। আইনজীবী শিবরাম ঘোষালের আরও দাবি, এই মামলা কোর্টের বাইরে নিষ্পত্তি হয়না। তা করলে সমাজের কাছে একটি ভুল বার্তা যাবে। এই ধরণের অপরাধ আরও বাড়বে।
আদালত সূত্রে খবর, বুধবার গ্রেফতারি এড়াতে অভিযুক্তরা আগাম জামিনের আবেদন করে। তবে অভিযুক্ত স্বামী রবি কর্মকার, শ্বশুর স্বপন কর্মকার, শাশুড়ি সঞ্চিতা কর্মকার, ননদ প্রতিমা কর্মকার, ভাশুর প্রতীক কর্মকার, খুড়শ্বশুর নানা কর্মকার ও জা বুল্টি কর্মকার আগাম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন জেলা জজ পার্থসারথি সেন।
উল্লেখ্য, বছর নয়েক আগে কাটোয়ার মূলটি কৃষ্ণ গ্রামের কুমকুম কর্মকারের সঙ্গে মন্তেশ্বর থানার হড়কাডাঙার বাসিন্দা রবির বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়েতে চাহিদামতো পণ দেওয়া হয়েছিল কুমকুমের বাড়ি থেকে। কিন্তু তা সত্বেও সন্তানদের জন্মের পর বাপেরবাড়ি থেকে আরও ১ লক্ষ টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল কুমকুমকে। শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে বাপেরবাড়িতে চলে যান নির্যাতিতা। পরে অত্যাচার বন্ধের কথা দিয়ে স্ত্রীকে বাড়ির ফিরিয়ে আনে রবি।
ঘটনার কয়েকমাস পর শ্বশুরবাড়িতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় কুমকুমের। মৃত্যুর খবর পেয়ে বাপেরবাড়ির লোকজন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। শ্বশুরবাড়ির লোকজন কুমকুম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে জানায়। যদিও বাপেরবাড়ির লোকজনকে মেয়ের মৃতদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। ময়না তদন্ত না করিয়েই মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বাপেরবাড়ির লোকজনকে মিটমাটের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে যান মৃতার মা। তবে থানা অভিযোগ নেয়নি। তাই তিনি কাটোয়া এসিজেএম আদালতে জামাই ও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আদালত তদন্তের জন্য কাটোয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়। তবে ঘটনাটি মন্তেশ্বরে ঘটায় কাটোয়া থানা তদন্তভার দেয় মন্তেশ্বর থানার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন এসিজেএম।