
শেষ আপডেট: 11 December 2022 06:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পরীক্ষার্থীর সংখ্যাই হোক আর প্রস্তুতি, টেট (TET) যেন কোনও অংশেই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের থেকে কম নয়। এর সঙ্গে আছে চাকরিপ্রার্থীদের আশা-আকাঙ্খা। তেমনই এক চাকরিপ্রার্থীর আশা পূরণেরই সহায়ক হয়ে দেখা দিল ফেসবুক (Facebook)। একশো শতাংশ দৃষ্টিহীন টেট পরীক্ষার্থী এরশাদ করিম ওই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দৌলতেই খুঁজে পেয়েছেন তাঁর 'রাইটার' (Writer) সাইওয়ানী দাসকে।
হুগলির কামারপুকুরের কাছে বাড়ি এরশাদের। তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। তবে এই প্রতিবন্ধকতা তাঁর চলার পথ থামিয়ে দিতে পারেনি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেছেন। এখন বিএড পড়ছেন। এবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়ম করেছে, বিএড বা ডিএলএড পাঠরত অবস্থাতেই টেট পরীক্ষায় বসা যাবে। তাই এবার প্রথমবার টেট পরীক্ষা দেবেন এরশাদ। কিন্তু তাঁর একজন রাইটার প্রয়োজন, যিনি পরীক্ষা হলে তাঁর কথামতো ওএমআর শিট ভরে দেবেন। এদিকে নিয়ম হল, টেট পরীক্ষার্থীর রাইটারকে কোনমতেই মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়া চলবে না।
সব মিলিয়ে একটু সমস্যাতেই পরেছিলেন মেধাবী এরশাদ করিম। সহজে রাইটার খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের গ্রুপে 'রাইটার দরকার' বলে পোস্ট দেয় তাঁর এক পরিচিত। সেই পোস্ট নজরে আসে সাইওয়ানী দাসের। দশম শ্রেণিতে পাঠরত এই তরুণী এরশাদের রাইটার হওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন। রবিবার সকালে তাঁরা দুজনে মিলে হুগলি উইমেন্স কলেজে আসেন। এখানেই টেটের সিট পড়েছে এরশাদের।
রাইটার হিসেবে সাহায্য করতে পেরে খুশি ত্রিবেণীর সাইওয়ানী। সে আর কয়েক মাস পরই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। এদিন ১১ টা বাজার আগেই দৃষ্টিহীন এরশাদদাদার হাত ধরে পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে ঢুকে যায় সাইওয়ানী। তার আগে এরশাদ জানান, প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। বোন সাইওয়ানীর সাহায্যে ভাল পরীক্ষার বিষয়ে সে আত্মবিশ্বাসী।
তল্লাশি চালিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের ঢোকানো হল পরীক্ষা হলে, কড়া নিরাপত্তায় শুরু হচ্ছে টেট