টাকা নিয়ে দলে লোক ঢোকানোর অভিযোগ! কাটমানি বিতর্কে বিজেপির দলীয় কার্যালয় ঘেরাও জলপাইগুড়িতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাটমানি বিতর্কে জলপাইগুড়িগুড়িতে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে উঠল। বিজেপি জলপাইগুড়ি জেলা কোর কমিটির সদস্য শিবশঙ্কর দত্তকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান ব
শেষ আপডেট: 4 July 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাটমানি বিতর্কে জলপাইগুড়িগুড়িতে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে উঠল। বিজেপি জলপাইগুড়ি জেলা কোর কমিটির সদস্য শিবশঙ্কর দত্তকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
বিজেপি সূত্রে খবর, গোলমালের সূত্রপাত সেই পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই। শিবশঙ্কর দত্ত তাঁর দলবল নিয়ে সে সময়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই ভোটে ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৩টির মধ্যে ৬টি আসনে জেতে বিজেপি। সেই দলে শিবশঙ্করের স্ত্রীও ছিলেন। উল্টো দিকে ৭টি আসনে জিতে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। গত শনিবার সেই ৭-এর মধ্যে ৬ জন বিজেপিতে যোগ দেন। তার পরেই শিবশঙ্করেরা বলতে শুরু করেন, তৃণমূলে যাঁরা কাটমানি খেতেন, তাঁদেরই বিজেপিতে নিয়ে আসা হচ্ছে।
প্রশ্ন ওঠে, কোনও অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে তৃণমূলের প্রধান ও উপপ্রধানকে দলে নেওয়া হলো। এই নিয়ে জেলা বিজেপির মধ্যেকার তীব্র দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। যার জেরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় নব্য বিজেপি নেতা শিবশঙ্কর দত্তকে, যিনি আবার নিজেকে ‘মুকুল রায়ের লোক’ বলে পরিচয় দেন। শুক্রবার দুপুরে, জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি দফতর দীর্ঘ সময় ধরে ঘেরাও করে রাখেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

নিমাই দাস নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘‘শক্তিস্থলের অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে জলপাইগুড়ি ধর্মপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান-সহ ৬ জনকে বিজেপিতে নেওয়া হলো, তা নিয়ে আমরা জেলা সভাপতির বিবৃতি চাই।’’
বিক্ষোভ চলার সময় বিজেপির পার্টি অফিস কার্যত ফাঁকাই ছিল। নতুন যোগ দেওয়া নেতাদের দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে দেখা যায়নি। বিজেপির জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী জানান, শিবশঙ্কর দত্তের দলে সদস্যপদ রয়েছে কি না জানা নেই। হালে কিছু লোক নিজেদের স্বঘোষিত বিজেপি নেতা দাবি করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়া, টাকা নিয়ে দলে লোক ঢোকানোর অভিযোগ রয়েছে। তাই দল শিবশঙ্করকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চার জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামপ্রসাদ বলেন, ‘‘শিবশঙ্কর দত্তের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের কিছু একটা ঝামেলা হয়েছিল। সেই নিয়ে ময়নাগুড়ি থেকে নেতা কর্মীরা এসেছেন। এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মিটে যাবে।’’ তবে কাটমানি কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূলের নেতাদের অনুমোদন ছাড়াই বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
জেলা পঞ্চায়েত সদস্য রমেশ রায়ের কথায়, ‘‘শিবশঙ্কর দত্তের মতো একজন লড়াকু নেতাকে কোন অভিযোগে দল বহিষ্কার করলো, আমরা তার জবাব চাই।’’