দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসি-র আতঙ্কে আত্মঘাতীর সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে রাজ্য জুড়ে। কিন্তু এবার সেই তালিকায় জুড়ে গেল এমন এক জনের নাম, যা স্তম্ভিত করে দিয়েছে বহু মানুষকে। লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির হয়ে প্রচার করার সময়ে হনুমান সেজে মানুষের মনোরঞ্জন করা রানাঘাটের সেই মানুষটি আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর নাম নিবাস সরকার। ভোটের আগে বিজেপি-র হয়ে প্রচার করার সময়ে গাড়ির বনেটে হনুমান সেজে বসে ছিলেন তিনি। সে ছবি ভাইরালও হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সিপিএমের দাবি, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ভীতির জেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন বিজেপির সমর্থক ও সক্রিয় কর্মী নিবাস। দলের পলিটবুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম টুইট করে তেমনই দাবি করেছেন। যদিও নিবাসের পরিবার তা অস্বীকার করেছে। রানাঘাট কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকারও দাবি করেন, “ব্যক্তিগত কারণে উনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এর সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই।” এই সাংসদের হয়েই প্রচারে দেখা গিয়েছিল হনুমান সাজা নিবাসকে।
দেখুন মহম্মদ সেলিমের টুইট।
https://twitter.com/salimdotcomrade/status/1180090954750889984
তবে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত কারণেই যদি তিনি আত্মহত্যা করবেন, তা হলে সেটি কী হতে পারে। নিবাসের ভাই প্রলব সরকার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে নিবাস শৌচালয়ে গিয়েছিলেন কিছু সময়ের জন্য। তার পরেই একটি ছোট গ্লাস হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। ভাইকে বলেন, তিনি নিজের জীবন নিয়ে বীতশ্রদ্ধ, তাই বিষ খেয়েছেন। কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান ৫৫ বছরের নিবাস। চিকিৎসকেরা জানান, কীটনাশক খেয়েছেন তিনি।
ঘটনাচক্রে, নিবাসের ছেলে রাজস্থানের উদয়পুরে ডাক্তারি করেন। নিবাস সরকারও কিছু দিন আগে সপরিবারে রাজস্থানের উদয়পুরে চলে গিয়েছিলেন। সদ্য কয়েক দিন আগে ফেরেন তিনি, তার পরেই এই অস্বাভাবিক মৃত্যু। পরিবারের একটি সূত্রের দাবি, এনআরসি নিয়ে জলঘোলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভয় পেতে শুরু করেছিলেন নিবাস। মানসিক শান্তির জন্যই কয়েক দিন ছেলের কাছে গিয়ে কাটিয়ে আসেন রাজস্থানে। তার পরে এই আত্মহত্যার ঘটনার পরেই দাবি উঠেছে, এনআরসি ইস্যুর জন্যই আত্মহত্যা করেছেন নিবাস।
বিজেপির সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে নিবাস সরকারকে চিনতেন। নির্বাচনে হনুমানের বেশে তাঁর হয়ে প্রচারের কথাও উল্লেখ করেছেন জগন্নাথ। কিন্তু এই মৃত্যু এনআরসি-র জন্য নয়, দাবি করেছেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও নিবাসের মৃত্যুর পিছনে এনআরসি নেই বলেই দাবি করেছেন।
খবর পেয়ে রাজস্থান থেকে এসে পৌঁছন নিবাসের ছেলে ও পুত্রবধূ। ছেলে নিউটন সরকার দাবি করেন, তাঁদের কাছে ১৯৭১ সালে এপার বাংলায় আসার কাগজপত্র সবই আছে। তাই এনআরসি নিয়ে এই আতঙ্ক অহেতুক ছিল। ঠিক কী কারণে বাবা আত্মঘাতী হল, তা পুলিশি তদন্ত করেই জানা যেতে পারে বলে দাবি তাঁর।