দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা বিজেপিতে (BJP) বরাবরই ঠোঁটকাটা নেতা তথাগত রায়। দলের নেতাদেরকেও কখনও ছেড়ে কথা বলেন না তিনি। আগেও একাধিকবার রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা তাঁর তোপের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সেই বর্ষীয়ান এই গেরুয়া নেতার সঙ্গে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিবাদ নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে তরজা।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শনিবার। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে শোকবার্তা জানিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু ইংরেজিতে লেখা সেই শোকবার্তায় বাক্যগঠনে ভুল ছিল, অভিযোগ করেন তথাগত। নিজের টুইটারে এই নিয়ে তিনি ঠাট্টাও করেন। ‘অর্ধশিক্ষিত’ বলেন দিলীপ ঘোষকে।
এরপর দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান এই নেতাকে নিয়ে। ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপালকে দল ছাড়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। আর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আলটপকা মন্তব্য করে জড়িয়েছেন নতুন বিতর্কে।
তথাগত রায়ের ঠাট্টার জবাব দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমে দিলীপ ঘোষ টেনে এনেছেন রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। বলেছেন, এই মনীষীরাও প্রথাগত শিক্ষায় বেশিদূর এগোননি। রামকৃষ্ণ দেব খুব একটা শিক্ষিত ছিলেন না। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। কিন্তু তাতে তাঁদের শিক্ষায় তো কোনও খামতি নেই। তাঁদের বাণীকেই বরং জীবনের পাথেয় করে চলেন মানুষ। তাই ভারতীয় সংস্কৃতি যাঁরা চেনেন না তাঁরাই শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বলেন দিলীপ ঘোষ।
দিলীপের এই মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক ডালপালা মেলেছে। রামকৃষ্ণ, রবীন্দ্রনাথদের আসনে তিনি বসিয়েছেন নিজেকে, যার বিরোধিতা করেছেন অনেকেই।
রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন সময়েও দিলীপ ঘোষ নানা সময়ে নানা মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তাঁর দলের লোকজনকেই। দিলীপ ঘোষ যে তাঁর খুব একটা পছন্দের মানুষ নন তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তথাগত রায়ও। বহুবার নাম না করে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্য সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। পার্লামেন্টের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে দিলীপ ঘোষের ‘কন্যাশ্রী’ বানান ভুল নিয়েও ঠাট্টা করেছিলেন।
এছাড়া একুশের বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় স্ট্র্যাটেজি্র বিরুদ্ধেও একাধিকবার সরব হয়েছেন তথাগত রায়। কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। কথা শোনাতে ছাড়েননি ভোটে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, তনুশ্রী চক্রবর্তীদের প্রার্থী করার দলীয় সিদ্ধান্তকেও।
তবে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তথাগত রায়ের সাম্প্রতিক বিবাদ রীতিমতো হাস্যাস্পদ হয়ে উঠেছে। রাজনীতির অন্দরমহলে এ নিয়ে চর্চা চলছেই। গেরুয়া শিবিরেও অস্বস্তি দানা বেঁধেছে ভালরকম।