
শেষ আপডেট: 25 October 2022 06:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গ-রাজনীতিতে এমন নজির নেই বললেই চলে, যা গতকাল প্রত্যক্ষ করেছে শিলিগুড়ি (Siliguri)। উত্তরবঙ্গে সিপিএমের (CPM) মুখ অশোক ভট্টাচার্যর (Ashok Bhattacharya) বাড়িতে সোমবার যান বিজেপির দার্জিলিংয়ের সাংসদ (Darjeeling BJP MP) রাজু বিস্ত। সঙ্গে ছিলেন শিলিগুলির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
কালীপুজোর দিনে সেই বৈঠকের ছবি ফাঁস করে তৃণমূল দাবি করছে, সৌজন্য সাক্ষাতের নামে বিজেপি ও সিপিএম নেতারা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। বিজেপি ডিসেম্বরে রাজ্য সরকারের পতন ঘটাবে বলে প্রকাশ্যে দাবি করে চলেছে। সেই সময় সিপিএম-সহ বামেরা যাতে বিরোধিতা না করে বিজেপির পাশে থাকে সে জন্য অশোকবাবুর মারফৎ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে বার্তা পৌঁছে দিতেই গেরুয়া শিবিরের দুই নেতা গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির নেতার বাড়িতে।

তৃণমূলের একাংশ এমন দাবিও করছে, বিজেপির বাংলাভাগের চক্রান্ত নিয়েও কথা হয়। সুভাষ ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে দার্জিলিংকে পৃথক রাজ্য করার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, অশোকবাবুরা তখন রাজ্যভাগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বিজেপি নেতাদের একাংশের বক্তব্য, তাঁরা শুধু দার্জিলিংকে আলাদা করার পক্ষপাতী নন। তবে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলা নিয়ে পৃথক রাজ্য হওয়া দরকার। বিজেপির ওই অংশ আশাবাদী উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দাবিতে রাজনীতি করা অশোকবাবুকে এখন এই আন্দোলনে পাশে পাওয়া যেতে পারে।
অশোকবাবু খাতায় কলমে সিপিএমের কোনও শীর্ষ কমিটিতে না থাকলেও এখনও তিনিই উত্তরবঙ্গ সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা। অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজুকে দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। দল ও কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য তিনি। দার্জিলিং নিয়ে তাঁর উদ্যোগে একাধিক বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অশোকবাবু এবং বিজেপি নেতারা যদিও এই বৈঠককে নিছকই দীপাবলির শুভেচ্ছে বিনিময় সাক্ষাৎ বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা ভুল। সূত্রের খবর, অশোকবাবু দলকেও সেই কথাই জানিয়েছেন। বৈঠকের আগেই তিনি দলীয় নেতৃত্বের একাংশকে বলেছিলেন, বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক তাঁর বাড়িতে আসতে চেয়েছেন।
বিজেপির দুই নেতার মধ্যে শঙ্কর ঘোষ একটা সময় সিপিএমে ছিলেন তাই-ই শুধু নয়, তাঁকে অশোকবাবুর ছায়াসঙ্গী হিসাবেই দেখেছে শিলিগুড়ির মানুষ। সেই শঙ্কর ঘোষকে সঙ্গী করে কালী পুজোর দিনে বিজেপি সাংসদ সিপিএমের প্রথমসারির মুখ অশোক ভট্টাচার্যের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা থেমে নেই।
উত্তর ভারতে দীপাবলি, দোল, ইদে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শুভেচ্ছা বার্তা, উপহার পাঠানো, সাক্ষাৎ ইত্যাদির প্রচলন থাকলেও বাংলায় তা নেই বললেই চলে। আচমকা মুখোমুখি হওয়া ছাড়া এখানে উৎসবেও সৌজন্য বিনিময়ের রেওয়াজ নেই। যদিও দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গ এই ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে উদার।
উৎসবের মধ্যেই সিপিএম-বিজেপি বৈঠক নিয়ে জোর প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, বিজেপি ডিসেম্বরে বিধায়ক কেনাবেচা করে বাংলায় সরকার দখল করার ছক কষেছে। সেই বিষয়ে ষড়যন্ত্র করতেই দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময়ের আড়ালে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সিপিএম এবং বিজেপি-দু’পক্ষই অবশ্য তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
কেরলের রাজ্যপাল কি ঢোক গিললেন? হাইকোর্ট বহাল রাখল উপাচার্যদের