তোলা না দেওয়ায় নার্সকে হুমকি দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর! এবার কাঠগড়ায় বিজেপি নেতারা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন উলট পুরাণ!
কাটমানি-কাণ্ডের ভরা বাজারে, 'তোলা' দিতে রাজি না-হওয়ায় এক নার্সের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে!
পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে, স্বস্তিপল্লি এলাকার দক্ষ
শেষ আপডেট: 4 July 2019 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন উলট পুরাণ!
কাটমানি-কাণ্ডের ভরা বাজারে, 'তোলা' দিতে রাজি না-হওয়ায় এক নার্সের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে!
পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে, স্বস্তিপল্লি এলাকার দক্ষিণ পাড়ার ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই নার্স, পার্বতী পাল। কিন্তু পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় তিনি বৃহস্পতিবার বর্ধমান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সরাসরি। আদালত কেস রুজু করে পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বলেছে।
পার্বতী জানান, স্বস্তিপল্লি এলাকায় যেখানে তিনি বসবাস করেন, সেই জায়গাটা বছরখানেক আগে পেয়েছেন তিনি। বাড়ি তৈরির জন্য বছর খানেক আগে সরকার তাঁকে এই জমি দেয়। তবে ওই জমি পাওয়ার জন্য সে সময়ে তাঁকে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের টাকা দিতে হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, তিনি একা নন, এলাকার ৭০- ৭৫ জনের কাছ থেকে সে সময়ে টাকা আদায় করা হয়েছিল একই কারণে।
এ দিন পার্বতী অভিযোগ করেন, তখন যে তৃণমূল নেতারা টাকা নিয়েছিল, তারা এখন বিজেপি-তে যোগ দিয়েছে। এখন ওই জমিতে বাড়ি তৈরি করার জন্য তারা ফের পার্বতীর কাছে টাকা দাবি করছেন। পার্বতী বলেন, "ওই বিজেপি নেতারা গত সোমবার আমার বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বাড়িতে থাকা তিন ভরি সোনার গয়না ও ১৫ হাজার টাকাও লুট করে নিয়ে পালায়।"

এ দিন আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে পার্বতী দাবি করেন, ওই বিজেপির লোকজন তাঁকে হুমকি দিয়েছে টাকা না দিলে তারা তাঁর ছোট ছেলেকে খুন করে তাঁদের বাড়ি ছাড়া করবে। তিনি আরও বলেন সে দিনের ঘটনা বিস্তারিত ভাবে পুলিশকে জানান হয়েছিল, কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টে অভিযোগ জানানোর পরেও তাঁর বাড়ির পাঁচিল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুবিচার পেতে তিনি বর্ধমান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডলসভাপতি সুভাষ দত্ত অবশ্য জানিয়েছেন, যাঁদের নামে ওই মহিলা অভিযোগ এনেছেন, তাঁরা কেউই বিজেপির কার্যকর্তা বা কর্মী নন। সুভাষ দত্ত বলেন, "আমরা চাই এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিক।"