
শেষ আপডেট: 23 April 2023 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তপন শিকদারের প্রয়ানের পর থেকে বাংলা বিজেপিতে একটা বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সর্বভারতীয় এই রাজনৈতিক দল বাংলার সংস্কৃতিকে কতটা আত্মস্থ করতে পেরেছে সেই প্রশ্ন উঠেছে বারবার। কারণ, ‘নরেন্দ্র মোদী স্বাগতম’ কিংবা কার্যকর্তা বা মণ্ডল সভাপতি টাইপের শব্দের চল বাংলা রাজনীতির অভিধানে ছিল না। এহেন বিজেপি একপ্রকার দলগত উদ্যোগে যেমন দুর্গাপুজো করেছে, তেমনই ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে দলের একাংশ। বলা হচ্ছে এর আয়োজক হচ্ছে ‘খোলা হাওয়া’ (BJP khola hawa)। অনুষ্ঠানের পোস্টারও প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যে। এবং তাতে দেখা যাচ্ছে, বক্তা থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। অনুষ্ঠানের টিকিট নিতে গেলে যোগাযোগ করতে হবে শঙ্কুদেব পণ্ডার সঙ্গে।
স্বপনের দাবি, ‘খোলা হাওয়া রাজনীতির ঊর্ধ্বে’। বিজেপি ছেড়ে যাওয়া বাবুল সুপ্রিয়কেও ট্যুইট করে দু’কলি গানের অনুরোধ করেছেন স্বপন।
কিন্তু এই খোলা হাওয়া নিয়েই বিজেপিতে এখন হাওয়া উষ্ম হয়ে গিয়েছে বলে খবর। দলের একাংশের বক্তব্য, অমিত শাহ আসছেন কলকাতায়। গালগল্প যাই দেওয়া হোক, সবাই বুঝবে ওই মঞ্চ বিজেপিরই মঞ্চ। তাতে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকবেন না? তাঁদের নাম থাকবে না পোস্টারে? তাঁদের এও প্রশ্ন রাজ্য বিজেপিতে এহেন কুঠুরি তৈরি হলে তার বার্তা কী যাবে?
রাজ্য বিজেপির এক নেতা ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, একুশের বিধানসভা ভোটে এই কারণেই দলের ফল খারাপ হয়েছে। সে সময়ে দিলীপ ঘোষ ছিলেন রাজ্য সভাপতি। তিনি ও শিবপ্রকাশ সবটা একা করার কৌশল নিয়েছিলেন। মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীরা দলে থাকলেও ভোটের মধ্যে ম্যারিয়ট হোটেলে কৌশল বৈঠকে তাঁদের ডাকা পর্যন্ত হয়নি। সেই নিয়ে গোঁসা করে মুকুল-শুভেন্দু-রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা একজোট হয়েছিলেন। এখন সেই দিলীপ আবার পোস্টার থেকে ব্রাত্য। যেন একটা সাইকেল তথা চক্র চলছে!
দলের ওই রাজ্য নেতার কথায়, অনুষ্ঠানে তনুশ্রী শঙ্কর, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সোমলতা আচার্য্যর উপস্থিত থাকার কথা। হতে পারে যে গৌরী সেনের অর্থে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তিনিই সবটা পরিচালনা করছেন। তবে আপাত ভাবে ব্যাপারে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে স্বপন দাশগুপ্তকে।