দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই সে দিনও বিরোধীরা অভিযোগ করতেন পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারতী ঘোষের ত্রাসে রাজনৈতিক কর্মসূচিই করা যায় না। তখন ভারতী ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার। কিন্তু অনেকগুলো দিন এগিয়েছে। কংসাবতী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। উনিশের ভোটে ভারতী ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী। আর নিজের নির্বাচনী জনসভা থেকে সেই পুলিশ ইস্যুতেই তৃণমূলকে আক্রমণ শানালেন তিনি।
মঙ্গলবার ঘাটালে সভা করতে এসেছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু লোক কই মাঠে? ফাঁকা মাঠেই সভা করতে হয় শাহকে। সভাপতির বক্তৃতার আগে মিনিট বারো জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন ভারতী। সেখানেই তিনি বলেন, “অসুস্থ হলে যেমন অক্সিজেন দিতে হয়, তেমনই তৃণমূলকে পুলিশের সাহায্য নিতে হয়। পুলিশই তৃণমূলের অক্সিজেন। সেটা সরিয়ে নিলেই চুরমার।”
তৃণমূলের অনেক নেতাই বলেন, একটা সময় ভারতীই ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি। কোথায় কে ব্লক সভাপতি হবেন, জেলা পরিষদে কে কোন দায়িত্ব পাবেন, সবটাই নাকি ঠিক হত পুলিশ সুপারের বাংলোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অফিসারদের তালিকায় উপরের দিকের নাম ছিল তাঁর। ভারতীও মমতাকে ‘জঙ্গলমহলের মা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কিন্তু এখন সে সব অতীত। পুরোটাই আক্রমণ। মমতাও আক্রমণ করেন ভারতীকে। আর ভারতীও একদা জঙ্গলমহলের মা-কে।
যদিও ভারতীর মুখে এ দিন এই কথা শুনে অনেকেই বলছেন, “উনি তো এটা ভাল জানেন। একটা সময় উনিই তো সবটা করতেন।” বাম এবং কগ্রেসের অভিযোগ, ভারতীর নেতৃত্বেই মিথ্যে মামলা দেওয়া হত তাদের কর্মীদের। এখন দেনাপাওনা ফুরিয়ে গিয়েছে বলে অন্য সুর গাইছেন। তৃণমূলও ভারতীকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। ফাঁকা মাঠ নিয়ে ঘাটালের এক তৃণমূল নেতা বলেন, “এই জন্যই বোধহয় ভারতীদেবী উত্তরপ্রদেশ থেকে ছেলে ঢোকানোর কথা বলেছেন। একটা সমাবেশ করার ক্ষমতা নেই, তাঁরা আবার ভোটে জিতবে!”