
শেষ আপডেট: 23 January 2023 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: নেতাজির (Netaji) জন্মদিন এলেই সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সাইকেলের হাতলে ঝোলানো থাকে রং তুলি আর চুনের বস্তা। পথের পাশের দেওয়ালগুলিতে (wall) সাদা রঙের পোঁচ পড়ে। সেখানে ফুটিয়ে তোলেন বাঙালির প্রিয় দেশনায়কের ছবি। পাশে লেখেন জয়তু নেতাজি। সেই কোন ছোটবেলা থেকে শুরু করেছেন এই কাজ। এখনও তাতে ছেদ পড়েনি।
বিশ্বনাথ বাউরি (Biswanatha Bauri) আসানসোল পুরনিগমের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেজডি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কৃষিজীবী। তবে এলাকায় নেতাজি শিল্পী হিসাবেই তাঁর পরিচিতি। ফরোয়ার্ড ব্লকের সমর্থক বিশ্বনাথবাবু। নেতাজির জন্মদিন এলেই ছবি আঁকতে ডাক পড়ে তাঁর। ফরওয়ার্ড ব্লকের শ্রমিক সংগঠন টিউসিসির ফরমাইসে কাজ শুরু করেছিলেন। তারপর কবে থেকে যেন নেতাজি তাঁর আত্মজন। জন্মদিনের আগে দেওয়ালে দেওয়ালে নেতাজির অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে না পারলে শান্তি হয় না কিছুতেই। তিনি জানান, ছোটবেলায় নারকেল তেলের কৌটোয় ছবি দেখে বাঘ আঁকা শিখেছিলেন। তারপর ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে দেওয়ালে বাঘ এঁকেছেন বহুবার। নেতাজির ছবি আঁকাটাও দেখে দেখেই শেখা। বিশ্বনাথের বৈশিষ্ট, দেওয়ালে চুনকাম করে সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটে নেতাজির ছবি আঁকতে পারেন তিনি।
জন্মদিনে পরনে সামরিক পোশাক-টুপি আর চশমা চোখে সুভাষচন্দ্র বসুর সেই চেনা ছবিটা বিশ্বনাথের তুলির টানে ফুটে ওঠে আসানসোলের দেওয়ালে দেওয়ালে। নেতাজির ছবি আঁকার ফরমায়েশ নিয়ে মাঝে-মধ্যে ভিনরাজ্যেও পাড়ি দেন তিনি। বছর পাঁচেক আগে স্ট্রোক হয়েছিল। পক্ষাঘাতে অচল হয়ে যায় ডানহাত। তারপর ধীরে ধীরে ফের সুস্থ হয়েছেন বিশ্বনাথ। সেই ডান হাতেই এখন আঁকেন নেতাজির ছবি। তবে আগে যেমন নিমেষে এঁকে ফেলতেন, এখন আর তা হয় না। সময় লাগে। তবুও রণে ভঙ্গ দেননি। এবারও ভোর না হতেই বেরিয়ে পড়েছেন রং-তুলি নিয়ে। যাঁর আদর্শে তিনি বিশ্বাসী সেই মানুষটার অবয়ব দেওয়ালে দেওয়ালে ফুটিয়ে তুলে তবেই ঘরে ফিরেছেন।
সিনেমা নিয়ে বিতর্ক বন্ধ হোক, মোদীর বার্তাকে সমর্থন অক্ষয় কুমারের