দ্য ওয়াল ব্যুরো: তবে কি সত্যিই বন্ধ হতে চলল ঐতিহ্যের পৌষমেলা? বর্তমান পরিকাঠামোর অভাবে এই ধরণের মেলা করা আর সম্ভব নয় বলে আগেই জানিয়েছিল বিশ্বভারতী। শনিবার কর্মসমিতির বৈঠকের পরেও পৌষমেলা না করার সিদ্ধান্তেই অনড় রইলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
এ দিন কর্মসমিতির বৈঠকের পরে বিশ্বভারতীর উপাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পৌষমেলা না করার সিদ্ধান্তেই অবিচল তাঁরা। তাঁর কথায়, "পৌষমেলা করতে আমরা অপারগ। তবে যথারীতি পৌষ উৎসব পালিত হবে।"
গত সপ্তাহে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বর্তমান পরিকাঠামোয় আর এই ধরণের মেলা করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর পরেই পৌষ মেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আশ্রমিক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বভারতীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। এমনকি শনিবার আসরে নামেন স্বয়ং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “পৌষমেলা বন্ধ হোক, চাই না। আমি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। পৌষমেলা একটা আবেগ। প্রয়োজনে সবার সঙ্গে কথা বলবো। সবাই মিলে বসবো।”
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কথায়, মেলা করা নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ মেলার দূষণ নিয়ে করা একটি মামলা। এই মামলাটি করেছেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। সেই মামলার খরচ টানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অথচ বিশ্বভারতীর কোনও আয় নেই মেলা থেকে। তাই এই বিপুল খরচের জোগান আসবে কোথা থেকে সেই প্রশ্ন তুলেই বিশ্বভারতী মেলা না করার ঘোষণা করেছে।
শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সদস্য অনিল কোনার জানিয়েছিলেন, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের সরিক তাঁরাও। মেলার পরিধি দিন দিন বেড়েই চলেছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষণও। এর জন্য প্রতিবছরই পরিবেশ আদালতে মামলা লেগেই থাকে। অন্য অনেক ব্যয় রয়েছে। সঙ্গে মামলার এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা একরকম অসাধ্য হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্তে আসতে হয়েছে তাঁদের।