বাইসন শিকার করে, কেটে, রেঁধে হাঁড়িয়ার আসর বনবস্তিতে! গরুমারার ঘটনায় গ্রেফতার এক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইসন শিকার করে সেই মাংস দিয়ে হাঁড়িয়া খাওয়ার আসর চলল রাতভর! গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ধূপঝোড়া বিট এলাকার এই ঘটনায় এক জন ধরা পড়েছে। জানা গেছে, গোপনে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযুক্তদের বাড়িতে আচমকা অভিযান চালায় বন দফতর।
পু
শেষ আপডেট: 21 August 2020 04:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইসন শিকার করে সেই মাংস দিয়ে হাঁড়িয়া খাওয়ার আসর চলল রাতভর! গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ধূপঝোড়া বিট এলাকার এই ঘটনায় এক জন ধরা পড়েছে। জানা গেছে, গোপনে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযুক্তদের বাড়িতে আচমকা অভিযান চালায় বন দফতর।
পুলিশ জানিয়েছে, রাতে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ধূপঝোড়া বিট এলাকার এক বনবস্তির কিছু বাসিন্দা মিলে একটি বাইসন শিকার করে। এর পরে সেই বাইসনটির শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে মাংস কেটে নিয়ে সেই মাংসই রান্না করে একটি বাড়িতে বসিয়েছিল হাঁড়িয়া খাওয়ার আসর।
বাইসন শিকার অবশ্য নতুন নয়। বাইসনের শিং পাচারের উদ্দেশ্য নিয়ে এর আগেও চোরাশিকারিরা হানা দিয়েছে এই অরণ্যে। শিকার করা হয়েছে গন্ডার। মাংস ও চামড়া বিক্রির লোভে শিকার হয়েছে চিতাবাঘও। কিন্তু এই প্রথম গরুমারা জাতীয় উদ্যানে বাইসন শিকার করে মাংস খাওয়ার অভিযোগ উঠল।
৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গরুমারা জাতীয় উদ্যান নানা রকম জীববৈচিত্রে ভরা। এখানে যেমন রয়েছে গন্ডার, হাতি, লেপার্ড, হরিণ, তেমনই এই জঙ্গলে রয়েছে দেড় হাজারের বেশি বাইসন।
এই ঘটনায় গরুমারা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের এডিএফও জন্মেজয় পাল বলেন, খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঐ রেঞ্জের রেঞ্জার অয়ন চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে টিলাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমরা ওঁরাও নামের এক ব্যাক্তির বাড়ি হানা দেন। সেখান থেকেই রান্না করা বাইসনের মাংস পাওয়া যায়।

পরে সোমরা ওঁরাওকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে, তারাই বাইসন শিকার করেছিল এবং রান্না করে সেই মাংস দিয়ে হাঁড়িয়া খেয়েছিল। মোট আট জন মিলে আসর বসায় তারা। তবে বাড়িতে গিয়ে অভিযান চালালে সোমরা ছাড়া বাকিরা পালিয়ে যায়। তার বাড়ি থেকে বাইসনের শিং, মাংসও উদ্ধার হয়েছে। পুরো গ্যাংকে ধরার চেষ্টা চলছে। ধৃতকে শুক্রবার জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে।
এ বিষয়ে জন্মেজয়বাবু বলেন, "আমরা আদিবাসী অধ্যুষিত এই বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত সচেতনতা প্রচার নিয়মিত চালাই। এর প্রচুর সুফলও আমরা পাচ্ছি। তবুও কিছু মানুষ এই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আরও বেশি সচেতনতা প্রচার চালাব।"