দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইসনের হামলায় ধূপগুড়িতে মৃত্যু হল ৭০ বছরের বৃদ্ধার। সূত্রের খবর, ধূপগুড়ি কলেজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা, মালতীরানি দত্ত নামের ওই বৃদ্ধার উঠোনে গিয়ে তাঁকে গুঁতিয়ে দেয় বাইসনটি। এর পরে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার সাতসকাল থেকেই আচমকা হইচই শুরু হয়। ধূপগুড়ি পৌর এলাকায় হানা দেয় এক বাইসন! গোটা এলাকায় দিকভ্রান্তের মতো ছুটোছুটি করতে থাকেন বাসিন্দারা। বাইসনের আক্রমণে মালতীদেবী-সহ জখম হন মোট ন'জন। শেষমেশ ঘুমপাড়ানি গুলি চালিয়ে বাইসনকে কাবু করা হয়। জখমদের চিকিৎসা চলছে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবারই ধূপগুড়ির গাড়োকুটা গ্রামে একটি বাইসন ছানা চলে আসে পথ ভুল করে। তার দু'দিন পরেই বড় বাইসনটি চলে এল ধূপগুড়ির লোকালয়ে। ছানা বাইসনটির সঙ্গে এই বাইসনের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি। বুধবার ১ নম্বর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাইসনের দাপিয়ে বেড়ানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ ও বনকর্মীরা। বিন্নাগুড়ির ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডও এসে পৌঁছয়।
বনকর্মীদের প্রাথমিক ধারণা, সোনাখালি জঙ্গল থেকে গাদং হয়ে প্রথমে ধূপগুড়ি কলেজপাড়া এলাকায় ঢোকে বাইসনটি। এর পরে মানুষের তাড়া খেয়ে চলে যায় ৮ নং ওয়ার্ডে। এর মধ্যেই ৯ জনকে জখম করে সে। এলাকাবাসী সুবোধ মিত্র বলেন, "আমার ক্ষেত তছনছ করে আমার বাড়ির বাগানে বসে আছে বাইসন। অনেকজনকে মেরেছে।"
ধূপগুড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিং জানান, খবর পেয়ে এলাকায় আসে বন দফতরের ট্রাংকুয়ালাইজ এক্সপার্ট দল। পরপর তিন বার ঘুমপাড়ানি গুলি করা হয় তাকে। কিন্তু প্রচুর মানুষের ভিড়ে এবং চিৎকারে বারবার ঘুম ভেঙে যায় তার। দফায় দফায় মোট সাত বার গুলি করে শেষমেশ ঘুম পাড়ানো সম্ভব হয় বাইসনকে। তার পরে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বনকর্মীরা।