
শেষ আপডেট: 18 May 2022 03:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দুয়ারে বিরিয়ানিইইইইইই’। শ্যামপুরের (Shyampur) অলিগলিতে ভরদুপুরে এমন হাঁক ওঠে। বিরিয়ানি (Biriyani) চাইলেই চলে আসে এক্কেবারে দুয়ারে। দাম? মাত্র ৬০ টাকা প্লেট! এই বিরিয়ানির সৌজন্যেই এখন শ্যামপুরে রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছেন বিধান চক্রবর্তী। এই নামে অবশ্য কেউ তাঁকে চেনে না। তিনি এখন শ্যামপুরের বিরিয়ানি কাকু।
আরও পড়ুন: আরজি করের এমার্জেন্সি বিভাগে বিরিয়ানির আসর বসান ডাক্তাররা! বড় অভিযোগ
প্রতিদিন বাইকের পিছনে হাঁড়ি বেঁধে বিরিয়ানি (Biriyani) ফেরি করতে বেরিয়ে পড়েন বিধান। শ্যামপুর এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিরিয়ানি বিক্রি করেন তিনি। মাত্র ৬০ টাকা দামের সেই বিরিয়ানি এক প্লেট খেলে পেট আর মন দুইই ভরে যায়। এই বিরিয়ানিতে থাকে একটা প্রমাণ মাপের চিকেনের পিস, একটা ডিম এবং একটা বড় আলুও। শ্যামপুরে বিরিয়ানি কাকু এখন এতই বিখ্যাত হয়ে পড়েছেন যে তাঁর জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে থাকেন ক্রেতারা।

বিধান জানিয়েছেন, বিরিয়ানির (Biriyani) স্বাদের তো কোনও তুলনা হয় না। সকলেই বিরিয়ানি খেতে ভালবাসেন। তাঁর এই বিরিয়ানির স্বাদ ও মানে কোনও খামতি নেই, তাই প্রচুর বিক্রি হয়। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে বিরিয়ানি ভর্তি দুটি হাঁড়ি বিক্রি হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিরিয়ানির হাঁড়ির বাইরে লাল কাপড়ের মোড়ক তো আবশ্যিক। সেটা থাকে বিরিয়ানি কাকুর হাঁড়িতেও। আর তার সঙ্গে লেখা থাকে ‘দুয়ারে বিরিয়ানি’। বিধান চক্রবর্তীর এই বিরিয়ানি দোকানে গিয়ে খেতে হয় না। তিনি নিজেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন বিরিয়ানি। তাঁর আসার অপেক্ষায় উদগ্রীব হয়ে থাকেন ক্রেতারাও।
হাঁড়ি ভর্তি এই সুস্বাদু বিরিয়ানি একাই বানান বিধান। এর আগে তিনি বিয়ে বাড়িতে খাবার তৈরির কাজ করতেন। সেখান থেকেই এত সুন্দর বিরিয়ানি তৈরি করতে শিখেছেন। আজকাল অনেকেই দোকানে গিয়ে খাবার না কিনে অনলাইনে তা অর্ডার করে দেন। বাড়ি বয়ে এসে খাবার দিয়ে যায় ডেলিভারি সংস্থার লোক। সেসব দেখেই বিধান ঠিক করেন বিরিয়ানি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ।
পাড়ার দোকানে আজকাল ১০০ টাকা কিংবা তারও কম দামে বিরিয়ানি পাওয়া যায়। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতেই কম দামে বিরিয়ানি বিক্রি করেন বিধান। করোনার সময় কাজ হারিয়ে চরম অর্থ সঙ্কটের মধ্যে পরতে হয়েছিল তাঁকে। এখন বিরিয়ানি দিয়েই হচ্ছে লক্ষ্মীলাভ।