
শেষ আপডেট: 22 March 2022 07:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাম জমানায় বীরভূমের নানুরের সূচপুর গণহত্যা নিয়ে কম আলোড়ন হয়নি। কিন্তু বাইশের রামপুরহাটের (Rampurhat) বগটুই গ্রাম যেন সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল (Birbhum Violence)।
সোমবার সন্ধ্যায় খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। তারপর রাতভর লাইন দিয়ে গ্রামে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘর পোড়া সেই ছাই থেকেই এখনও পর্যন্ত ১০ জনের ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয়েছে (Birbhum Violence)। আর এই ঘটনা নিয়ে বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) বলেছেন, টিভি ফেটে আগুন লেগেছে!
তাঁর কথায়, "তিন চারটি বাড়িতে আগুন লেগেছিল। টিভি ফেটে আগুন লাগে। দমকল, পুলিশ গিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, তার পর বলব।’’ তবে উপপ্রধান খুনের সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনুব্রত (Anubrata Mondal)। তিনি বলেন, ‘‘গতকালের ঘটনার সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। আমি তো ওখানে ছিলাম না। আমি সকালে খবর পেয়েছি (Birbhum Violence)। আমি যতদূর খবর পেয়েছি, একটি বাড়িতেই সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।’’
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের আবার বক্তব্য, ঘটনাটি 'স্থানীয় গ্রাম্য বিবাদ' ছাড়া কিছু নয়। তাঁর দাবি, "রামপুরহাটের ঘটনায় সরকার তৎপরতার সঙ্গে যা যা করার করছে।" তিনি টুইট করে লেখেন, "দুর্ঘটনা, না আগের খুনের প্রতিক্রিয়া, না ষড়যন্ত্র, সবটা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এই আগুনের ঘটনায় রাজনীতি নেই।"
স্থানীয়দের বক্তব্য, ১০ জন মারা গেছেন। এটাও কম করে বলা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। বহু দেহ রাতে লোপাট করে দেওয়া হয়েছে। বগটুই গ্রামের (Rampurhat) বাসিন্দা সুভাষ পারুই সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এমন সময় বাড়িগুলোতে আগুন লাগানো হয় যাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সবাই পুড়ে মরে। বাড়ির ভিতরে থাকা বাসিন্দারা যখন টের পান আগুন লেগেছে তখন আর বেরিয়ে আসার উপায় নেই।
গোটা গ্রাম এখন ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আগুন নেভানোর কাজ চালাচ্ছে দমকল। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কয়েকটি শিশুও দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে।
গতকাল রাতের দিকে ভাদু শেখ নামের তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান খুন হয়ে যান। এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎই রামপুরহাটের (Rampurhat) জনবহুল এলাকায় বোমাবাজি শুরু হয়। বোমা মেরেই খুন করা হয় ভাদু শেখকে বলে অভিযোগ। এলাকাজুড়ে ব্যাপক বোমাবাজি চলতে থাকে তারপরও। শেষমেশ রাতের অন্ধকারে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা।
ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। দিনে দিনে রাজ্যের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। পরপর রাজ্যে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তৃণমূল নেতৃত্বদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মতই ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, রামপুরহাটের তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
রামপুরহাটের ঘটনায় উদ্বিগ্ন নবান্ন, চলছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে মুখ্যসচিব স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ পুলিশের সিনিয়র আধিকারিক।