
শেষ আপডেট: 16 November 2022 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পঞ্চায়েত ভোট হবে আগামী বছর। কিন্তু তার আগেই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে লাল মাটির দেশ বীরভূম। আর তাতে ছেলেপুলে নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি চলে যাচ্ছেন (leaving village)।
এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে (TMC inner clash) সোমবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সাঁইথিয়ার (Birbhum sainthia) বহড়াপুর গ্রাম। একজনের ডান হাত ও ডান পা উড়ে যায়। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হয় এক নাবালকও। বর্ধমান মেডিকেল কলেজে তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এরপর গ্রাম থেকে প্রায় ৩৫ টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বম্ব স্কোয়াড এসে সেই বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করে। এলাকায় পুলিশ টহলও দিচ্ছে। তবু নিরাপদ বোধ করছেন না গ্রামবাসীরা। তাই একে একে গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন সাঁইথিয়ার বহড়াপুরের বাসিন্দারা।
সোমবার রাতে প্রায় ৪-৫ টা পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নেন। উল্লেখ্য, সাঁইথিয়ার ব্লক তৃণমূল সভাপতি সাবের আলির সঙ্গে ব্লকের কার্যকরী সভাপতি তথা বনগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তুষার মণ্ডল গোষ্ঠীর বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষ বলে বিরোধীদের দাবি।

এলাকাবাসীর দাবি মূলত বালিঘাটের দখল নিয়েই শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর ঝামেলাতেই অশান্তি বেঁধেছে। বহড়াপুর গ্রামের বাসিন্দারাও দুই নেতার গোষ্ঠীতে বিভক্ত বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্ত সাবের আলি মঙ্গলবার বলেছিলেন, "অনুব্রত মণ্ডল না থাকায় দলে নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই সমস্যা হচ্ছে। অনেকে নিজেদের অনুব্রত ভাবতে শুরু করেছে।" এই বিষয়ে দলের উচ্চ নেতৃত্বকে চিঠি লিখবেন বলেও জানান সাবের। এদিকে মঙ্গলবারই বিরসা মুণ্ডার জন্মদিন উপলক্ষে বীরভূমে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম সাঁইথিয়ার ঘটনাকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে মানতে চাননি। তিনি বলেন, "এখন সবাই তৃণমূল। সাঁথিয়ার ঘটনাটা গ্রাম্য বিবাদ। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।"

এদিকে বীরভূমের ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় এবার উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র। মঙ্গলবার নলহাটি থানার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী নাচপাহাড়ি গ্রামের কাছে এক সন্দেহজনক বাইক অরোহীকে আটক করে পুলিশ। তার ব্যাগ থেকে তিনটি বন্দুক উদ্ধার হয়। যার মধ্যে দুটি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শটার। এছাড়াও ১১ রাউন্ড গুলি পাওয়া গিয়েছে। কী উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র আসছিল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই বীরভূমে দাঁড়িয়ে ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডের দিকে সীমান্ত নিরাপত্তার ঢিলেমির সুযোগ নিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে জেলায় অস্ত্র ঢোকানো হচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন বলেও জানান।
ফের মোরবি প্রশাসনকে ভর্ৎসনা কোর্টের, 'গা-ছাড়া' ভাব চলবে না! রিপোর্ট চাই আজই, নয়তো…