
শেষ আপডেট: 28 December 2019 07:30
‘মোরে ডাকি লয়ে যাও মুক্ত দ্বারে’ সঙ্গীতে বৈতালিক এবং উপাসনার মধ্যে দিয়ে ২৪ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে শুরু হয়েছিল ১২৫তম পৌষমেলা। মঙ্গলবার ভোর হতেই শান্তিনিকেতন গৃহ থেকে ভেসে আসছিল সানাইয়ের সুর। তারপরেই ছাতিমতলায় উপাসনা শুরু হয়।
১৮৯৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন জোড়াসাঁকোয় শয্যাশায়ী, তখন তাঁরই নির্দেশে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে ৭ই পৌষ উপাসনা গৃহের উদ্বোধন করেন। সেই উপলক্ষে কাচঘর সংলগ্ন মাঠে বসে এক দিনের মেলা। সেই শুরু পৌষমেলা। তখন বৈদ্যুতিক আলো ছিল না। দিনের বেলাতেই সারা হত সমস্ত অনুষ্ঠান।
১৮৯৪ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত এই পৌষমেলা হত একদিনের। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পর পর, ১৯৬১ সাল অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ পর্যন্ত মেলা হত দু’দিনের। কলেবর বৃদ্ধি হওয়ায় সেই সময় থেকে মেলা পূর্বপল্লির মাঠে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৬১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মূল মেলা ছিল তিন দিনের। পরে ভাঙা মেলা থাকত আরও বেশ কয়েক দিন। ২০১৬ সালে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে তিনদিনের মেলা শেষ হতেই মাঠ খালি করে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এ বার সেই মেলায় চারদিনের ছাড়পত্র মিলেছিল।
মেলা শুরুর ৪ বছর বাদে অর্থাৎ ১৮৯৮ সাল থেকে মেলার সময় কলকাতা থেকে হাওয়াই বাজি নিয়ে আসা হত। ছোট আকারে পূর্বপল্লির মাঠে তা পোড়ানো হত। পরে সুরুল থেকে বাজি নিয়ে এসে তা পোড়ানো হত। সেই বাজি পোড়ানো দেখতে ভিড় করতেন হাজার হাজার মানুষ। পরিবেশ আদালতের রায়ে সেই বাজি পোড়ানো এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেলার দূষণবিধি নিয়ন্ত্রণ দেখার জন্য একটি মনিটরিং কমিটিও গড়া হয়েছে।