দ্য ওয়াল ব্যুরো পূর্ববর্ধমান: রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ বঙ্গজননী বাহিনীর সহযোগিতায় রাজ্য ব্যাপী ৫৫ হাজার আশা-কর্মীকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের ৩৩৮৭ জন আশাকর্মীকে এই সম্মানে ভূষিত করা হল।
করোনা পরিস্থিতিতে আশা কর্মীরা এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে পরিযায়ী শ্রমিকদের খোঁজখবর নিয়েছেন। বাইরে থেকে আসা পরিযায়ীদের খোঁজ নিয়ে তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো, তাদের পরিবারের লোকেদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা, প্রয়োজনে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি কাজে খুব সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন এলাকার আশা-কর্মীরা। স্থানীয় কারও করোনা উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। করোনা পজিটিভ রোগীদের এবং পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন। গত ছ'মাস ধরে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি আশার দিদিরাও সামনের সারি থেকে কাজ করে গেছেন।
পূর্ববর্ধমান জেলার ৫৯২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩৩৮৭ জন আশাকর্মীকে কোভিড -১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহসী অবদানের জন্য 'বীরাঙ্গনা আশা' স্বীকৃতি দেওয়া হল।
জেলার বড়শুল প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহযোগিতায়, বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে এরকম ১২২জন আশাকর্মীকে তাদের সাহসিকতার জন্য সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাপরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহ সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলা বঙ্গজননী বাহিনীর সভানেত্রী গার্গী নাহা, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল দত্ত, জেলাপরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম।
পূর্ববর্ধমান জেলা পরিষদ সভাধিপতি শম্পা ধাড়াকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হল তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, "মা দুর্গা যেমন অশুভ শক্তির বিনাশ করেন, তেমনি আশার মায়েরা নিজেদের কথা, পরিবারের কথা না ভেবে রাজ্যব্যাপী করোনা সংক্রমণের অশুভ সময়ে অন্যদের উপকারে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। জেলায় জেলায় করোনা সংক্রমণ প্রতিহত করতে তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।"
আশা কর্মী কৃষ্ণা মণ্ডল জানান, "বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। তেমনি সম্মানও পেয়েছি মানুষের কাছ থেকে। এলাকার মানুষ আমাদের এক ডাকে চেনে। তারই স্বীকৃতি স্বরূপ বীরঙ্গনা আশা সম্মানে ভূষিত হলাম।" এই সম্মান প্রাপ্তিতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আশা-কর্মীদের কাজের আগ্রহ আরও বাড়বে, এমনটাই মনে করছেন কৃষ্ণা মন্ডলের মতো জেলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা আশাকর্মীরা।