
শেষ আপডেট: 3 March 2023 08:08
সেদিন ষোলর ভোটের গণনা চলছিল। সকাল সওয়া এগারোটা নাগাদ যখন মোটামুটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছ তখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম রাজ্য দফতর থেকে বেরোচ্ছিলেন বিমান বসু (Biman bose)। সাদা বোলেরো গাড়ির সামনের সিটে বসা বর্ষীয়ান বিমান বসুকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন বাম-কংগ্রেস জোটের (CPM-Congress alliance) ফলাফল নিয়ে। কিছুটা মেজাজ হারিয়ে বিমানের জবাব ছিল, 'জোট না ঘোঁট হয়েছে!'
সাত বছর আগে যে বিমান ছিলেন সিপিএমে তীব্র জোট বিরোধী, সেই তিনিই এখন সমঝোতার লাইনের। সাগরদিঘি নির্বাচনে (Sagardighi by-election) জোট প্রার্থী হিসাবে কংগ্রেসের বাইরন বিশ্বাসের মাইলফলক লেখা জয়ের পর বিমানের ভূমিকা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে।
বিমান এখন সিপিএমে নিধিরাম সর্দার। বয়সের কারণেই সব ধরনের কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। তবে একটি পদ রয়ে গিয়েছে। তা হল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। শরিক দলগুলির সব নেতারা বিমানবাবুকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। সাগরদিঘির ভোটে জোটের ব্যাপারে অধীর চৌধুরী প্রথম চিঠি দিয়েছিলেন বিমান বসুকেই। তার আগে দু'জনের ফোনে কথা হয়েছিল।
অধীরের সেই বার্তা সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীকে মৌখিকভাবে জানান বিমানই। এবং পরামর্শ দেন, সাগরদিঘিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রার্থী যেন না দাঁড় করানো হয়। সেইসঙ্গে বিমান বসু অধীরকে এই পরামর্শও দেন যে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে তিনি যেন সব ক'টি শরিকদলকে চিঠি দেন। অনেকের মতে, কৌশলে গোটাটা বামফ্রন্টের মধ্যে নিয়ে আসেন বিমান।
বেশ কিছুটা পরে মহম্মদ সেলিম সাগরদিঘি সংক্রান্ত জোট আলোচনায় ঢোকেন। এ কথা ঠিক, সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী নীতিগতভাবে সায় না দিলে এই বিষয়টি এতদূর এগোত না। কিন্তু সেখানে না থেকেও নিজের ওজন দিয়ে গোটাটা প্রভাবিত করেন বিমানই।
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জোটের ব্যাপারে মুর্শিদাবাদ জেলা সিপিএমের গোড়ায় আপত্তি থাকলেও পরে তা কেটে যায়। সূত্রের খবর, গত রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে মুর্শিদাবাদ সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা যখন বইমেলা যাবেন বলে তাড়াহুড়ো করছিলেন, সেই সময় বিমান বসু প্রাক্তন যুব নেতাকে রসিকতা করে বলেছিলেন, "জামির, এখন সব ফেলে সাগরদিঘিতে সাঁতার কাটো!"
এই জোট নিয়ে গত সাত বছর ধরে কেবল ভাঙা-গড়া চলছে। উনিশের লোকসভা ভোটের সময়েও বিমান বসুর মন্তব্য প্রদেশ কংগ্রেসকে চটিয়ে দিয়েছিল। আলোচনার মাঝে একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বামেরা। ফাঁকা রেখেছিল মালদহ দক্ষিণ আর বহরমপুর। তারপর কংগ্রেসও প্রার্থী ঘোষণা করে। সেই সময়ে সোমেন মিত্রর উদ্দেশে বিমান বসু বলেছিলেন, টেবিলের তলায় কী হয়েছে জানি না! কিন্তু সেই তিনিই যেন বদলে গিয়েছেন। সাগরদিঘির ভোটের পর তাই সেই বদলে যাওয়া বিমানের কথাই ঘুরছে বিধান ভবনের বারান্দায়।
অধীর জোটের ব্যাপারে প্রথম থেকেই আন্তরিক। আবার সিপিএমের অনেকে মনে করেন, ভোট ট্রান্সফারে কংগ্রেস যে সুবিধা পায় তা বামেদের ক্ষেত্রে হয় না। কিন্তু সাগরদিঘির ভোটের পর ফের নতুন কথা ভাবছেন দুই দলের নেতারাই।
কারণ সামনের বছর লোকসভা ভোট। জোট মজবুত থাকলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার ফল অন্যরকম হতে পারে বলে মত অনেকের। সেখানে যেমন অধীরের বহরমপুর, ডালুবাবুর দক্ষিণ মালদহ আছে তেমন সিপিএমেরও মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ আসন নিয়ে আগ্রহ রয়েছ।
সাগরদিঘির ভোটগ্রহণের বিকেলেই অধীর চৌধুরী বলেছিলেন, পঞ্চায়েত তো বটেই, ভবিষ্যতেও বামেদের সঙ্গে জোট অব্যাহত রাখতে তিনি খোলা মন নিয়ে এগোবেন। সাগরদিঘির ফল প্রকাশের পর মহম্মদ সেলিম বলেছেন, এই ফল সুদূরপ্রসারী। এখন দেখার কী হয়।
‘আই লাভ সিসোদিয়া,’ ডেস্ক দিল্লির স্কুলে, আপ-বিজেপি তরজা তুঙ্গে