
শেষ আপডেট: 23 November 2023 13:06
বছর চারেক আগের কথা। ২০১৯-এর জানুয়ারি মাস। জেলা সিপিএম তারকেশ্বর থেকে গোঘাট পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার পদযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছিল। সেই পদযাত্রা ছিল দু’দিন ব্যাপী। দ্বিতীয় দিন আরামবাগ থেকে কামারপুকুর চটি পর্যন্ত যাবে পদযাত্রা। সামনে বিমান বসু (Biman Basu)। সুদর্শন রায়চৌধুরী তখন বেঁচে। মাঝের অনেকটা রাস্তা নো ম্যানস ল্যান্ড। দু’দিকে খাঁ খাঁ মাঠ।
বিমানবাবুর মুড বুঝে সুদর্শনবাবু বলেছিলেন, এই তিন-চার কিলোমিটার গাড়িতে যাবেন নাকি? হাঁটতে হাঁটতে, তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বিমানের প্রথম জবাব ছিল, ‘আমি কি পারব না নাকি?’ সুদর্শনবাবু বলেছিলেন, ‘পারবেন না কেন! লোকজন তো নেই, তাই বলছি!’ শেষে অবশ্য রাজি হয়েছিলেন। ওই চার কিলোমিটার গাড়িতে গিয়ে গোঘাটের পাঁচখালি গ্রামে দাঁড়িয়ে চা খেয়েছিলেন বিমান। গাড়ির বনেটে তবলার বোলও তুলেছিলেন মেজাজে।
কিন্তু রবিবারের হুগলির অন্য প্রান্ত ঠাওর করল, বয়স হয়েছে বিমান বসুর। তারকেশ্বর থেকে গোঘাটে যা পেরেছিলেন উনিশের জানুয়ারিতে, তেইশের এপ্রিলে তা আর তাঁর শরীরে দিল না।
এদিন কোন্নগর বাটা থেকে উত্তরপাড়া গৌরী সিনেমা পর্যন্ত সম্প্রীতি মিছিল ডেকেছিল বামপন্থী দলগুলি। বামফ্রন্টের বাইরে থাকা এসইউসিআই, সিপিআইএমএল লিবারেশনও যোগ দিয়েছিল মিছিলে। মিছিলের এই পথটুকুর দৈর্ঘ্য মেরে-কেটে পাঁচ কিলোমিটার। কিন্তু পুরোটা হাঁটেননি বিমান।
দেখা যায় হিন্দমোটর কমলা রায় হাসপাতালের সামনে যখন মিছিলের মুখ পৌঁছয় তখন বিমান বসু একটি হুড খোলা গাড়িতে উঠে পড়েন। একজন পাঞ্জাবি চালক স্টিয়ারিংয়ে বসেছিলেন। তাঁর পাশেই সওয়ার হন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। সাধারণত নিজেও যখন দলের গাড়িতে এখানে সেখানে যান তখন সামনের আসনে বসাই তাঁর অভ্যেস। এদিনও অন্যথা হয়নি।
তারপর মিছিল এগোয়। মিছিলের পিছু পিছু এগোয় লাল হুড খোলা জিপটি। সামনে বসা বিমান বসু। মিছিল শেষে গৌরী সিনেমার সামনে সভা হয়। সেই মঞ্চেই বিমান জানান, ৩৪ মিনিট হেঁটেছেন তিনি। বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বলেন, ‘আমি পুরো মিছিলটা হাঁটিনি। ৩৪ মিনিট হেঁটেছি। আমি ঘড়ি দেখেছি। ৩৪ মিনিট পর রিটায়ার করি। পিছনে গাড়িতে উঠেছিলাম।’ তারপর আরও বলেন, ‘আজ আমি হুগলিতে যে মিছিল দেখলাম তাতে আমি অভিভূত। এইরকম মিছিল আমি আগে এই জেলায় দেখিনি।’
কিন্তু কেন, কী বৃত্তান্ত তা ব্যাখ্যা করেননি বিমান বসু। তবে অনেকেই মনে করছেন, গরম, বয়স— সবটা মিলিয়েই হয়তো পারেননি বিমানবাবু। হুগলি সিপিএমের এক নেতা বলেন, ‘লোকটার বয়স এখন ৮৪ বছর। এটা ভুলে গেলে চলবে না!’ উত্তরপাড়ার এক সিপিএম নেতার কথায়, ‘এভাবে বিমানদাকে হাঁটা থামাতে দেখিনি। অবাকই হলাম।’ তবে আবার অনেকে বলছেন, শীতকালে পদযাত্রা হলে কিন্তু বিমানদা এখনও অনেকে হারিয়ে দেবেন। সোমবার হাওড়ার বালিখাল থেকে সালকিয়া পর্যন্ত পৃথক সম্প্রীতি মিছিলেও হাঁটার কথা বিমানের।