
শেষ আপডেট: 22 June 2022 04:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের সম্মিলিত প্রার্থী হিসেবে মঙ্গলবার যশবন্ত সিনহার (Yashwant Sinha) নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর থেকেই ক্ষোভ বাড়ছিল বাম মহলে (CPM)। রাত বাড়তে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সমালোচনা আরও তীব্র হতে শুরু করে। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন যশবন্তকে প্রার্থী করা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)।
বাংলা থেকে লোকসভায় বামেদের কোনও প্রতিনিধি নেই। বিধানসভাও বাম-শূন্য। সংসদের উচ্চকক্ষে এই রাজ্য থেকে বামেদের প্রতিনিধি একমাত্র বিকাশবাবুই।
এদিন দ্য ওয়ালের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "পার্টি বিরোধী ঐক্যের প্রার্থী চেয়েছিল। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচন ঠিক হয়নি।" বিকাশবাবুর কথায়, "জাতীয়স্তরে বিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে একটা অবস্থান নিতেই হতো। কিন্তু প্রার্থী বাছাইটা ঠিক হয়নি। আপাতত এটুকু বলতে পারি।"
যশবন্ত সিনহা ২৪ বছর আমলার চাকরির পর তা থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে যোগ দেন সক্রিয় রাজনীতিতে। ১৯৮৪ সালে জনতা দলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। চন্দ্রশেখর মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন যশবন্ত। তারপর বিজেপিতে যোগ দেওয়া, ১৯৯৬ সালে বিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র হওয়া, অটলবিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী হওয়া এবং জীবনের সায়াহ্নে এসে তৃণমূলে যোগ দেওয়া--সব মিলিয়েই বাম মহলে যশবন্ত নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অনেকের মতে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, বিজু জনতা দলের মতো আঞ্চলিক পার্টিগুলোর সঙ্গে বিজেপির যা সমীকরণ তাতে বিজেপির প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুকে পরাস্ত করা যাবে না। বাম মহলে এই প্রশ্ন উঠছে, সিপিএম, সিপিআইয়ের মতো দলগুলো কি পারত না, 'পলিটিক্যালি কারেক্ট' থাকার জন্য যশবন্তের নামের থেকে নিজেদের দূরত্ব রাখতে? কেউ কেউ এও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাজপেয়ী জমানায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল কালামের নিশ্চিত জয় জেনেও লক্ষ্মী সায়গলকে বামেদের প্রার্থী করার কথা।
শুধু সিপিএম নয়। বাংলায় লিবারেশনের মধ্যেও যশবন্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও এ রাজ্যে তাঁদের কোনও বিধায়ক নেই। বিহারে প্রায় এক ডজন বিধায়ক রয়েছে।
এ হেন বিতর্কের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলার একমাত্র বাম ভোটার বিকাশ জানিয়ে দিলেন, প্রার্থী নির্বাচন ঠিক হয়নি।