
শেষ আপডেট: 24 April 2023 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিভিশন সাক্ষাৎকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই সোমবার দেশের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বড় নির্দেশ দিয়েছেন। শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে হলফনামা তলব করে জানতে চেয়েছেন, আদৌ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কি না! এই প্রশ্নে দ্য ওয়াল-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন আইনজীবী তথা সিপিএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Bhattacharya Reacts on Justice Abhijit Ganguly)।
এদিন বিকাশ স্পষ্টই বলেন, ‘সাক্ষাৎকার দেওয়া নিয়ে কোনও অসুবিধা নেই। তাতে আইনি কোনও বাধা নেই। বিচারপতিরা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না এমনটা নয়।’
তাহলে অসুবিধা কী নিয়ে?
বিকাশবাবু বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে ওরা (পড়ুন রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস) গিয়ে বারবার বলেছে, যে মামলা একজন বিচারপতি শুনছেন তা নিয়ে তিনি সাক্ষাৎকারে কোনও মন্তব্য করতে পারেন কি?’
বিকাশবাবুকে প্রশ্ন করা হয়, আইনজীবী হিসাবে আপনি মনে করেন? একজন বিচারপতি যে মামলা তাঁর এজলাসে শুনছেন, তা নিয়ে কি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন? এই প্রশ্নের জবাবে বিকাশবাবু স্পষ্টই বলেন, ‘একজন বিচারপতি যে মামলা শুনছেন, তা নিয়ে যদি তিনি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। ওই বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারে বলাটা উচিত হয়নি।’
হাইকোর্ট পাড়ায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা সুবিদিত। আবার বহু মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে শোনা গিয়েছে বিকাশের প্রশংসা করতে। সেই বিকাশবাবুই এদিন বিচারপতির সাক্ষাৎকারে নির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলার ঔচিত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন।
এরপর কী হতে পারে সে ব্যাপারেও একটা আগাম আন্দাজ করেছেন বিকাশবাবু। তাঁর কথায়, ‘হয়তো এরপর সুপ্রিম কোর্ট ওঁর (পড়ুন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের) এজলাস থেকে ওই মামলাগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।’ বিকাশবাবু এও বলেন, ‘দেশের প্রধান বিচারপতি যে হলফনামা চেয়েছেন তারও যৌক্তিকতা আছে।’
তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্টই বক্তব্য, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় পর্যবেক্ষণে যা যা ধারাবাহিকভাবে বলে চলেছেন, এবং তা সংবাদমাধ্যমে যেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে তার একটা নকশা আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতেই তা করা হচ্ছে বলে কুণাল ঘোষদের বক্তব্য। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট হলফনামা চাওয়ার পর কুণাল এও বলেছেন, ‘বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এবার উচিত কোর্ট ছেড়ে রাজনীতিতে আসা।’
রাজনীতিতে তৃণমূলের কট্টর বিরোধী হিসাবেই পরিচিত বিকাশ। তাছাড়া নিয়োগ দুর্নীতির অধিকাংশ মামলাতেই তিনি রয়েছেন আইনজীবী হিসাবে। অনেকে বলেন, এই আজকে এত লোক জেলে, এই যে তদন্তের এই ক্ষিপ্রতা তার অনেকটার নেপথ্যেই রয়েছেন সিপিএমের এই আইনজীবী সাংসদ। কিন্তু সেই তিনিও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকারে নিজের এজলাসের মামলা নিয়ে কথা বলা ঠিক হয়নি।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আরও আগে পদক্ষেপ করা উচিত ছিল: কল্যাণ