দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে এনসেফেলাইটিসের থাবা, অন্যদিকে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ, জোড়া ফলায় কার্যত নাজেহাল বিহার। এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণে গত ১৬ দিনে বিহারের হাসপাতালগুলিতে প্রায় ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে তাপপ্রবাহের কারণেও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। গত কয়েকদিনে তীব্র তাপপ্রবাহে কমপক্ষে ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু-মহিলা-সহ বহু মানুষ।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঔরঙ্গাবাদ, গয়া, নওয়াদা এখনও পর্যন্ত হিট লিস্টে রয়েছে। ঔরঙ্গাবাদে তাপপ্রবাহের কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩০ জনের, গয়াতে ৩৫ জনের এবং নওয়াদায় ১১ জনের। তাপপ্রবাহের কারণে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। গয়াতে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।
চলতি মরসুমে বিহারের তাপমাত্রা গত ১০ বছরের রেকর্ড ছাপিয়েছে। শনিবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গয়ার তাপমাত্রা ছিল ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভাগলপুরের তাপমাত্রা ছিল ৪১.৫ ডিগ্রি। সেই সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত তাপপ্রবাহ। তাতেই শুরু হয় মৃত্যু মিছিল।
রাজ্য জুড়ে জরুরি অবস্থা চালু করতে সোমবারই বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। জেলাশাসক অভিষেক সিং এক নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে যে কোনও রকম সরকারি বা বেসরকারি নির্মাণ কাজ, ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ বা কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না। অসুস্থদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য জেলার সমস্ত সরকারি হাসপাতালগুলিতে মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই দলে থাকবেন ৬ জন করে সিনিয়র ও ১০ জন করে জুনিয়র ডাক্তার।
এ দিন বিহারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে ঔরঙ্গাবাদের হাসপাতালগুলি পরিদর্শনে গেলে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেন স্থানীয়রা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কালো পতাকা দেখিয়ে ফিরে য়েতে বলেন হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা ও জন অধিকার পার্টি লোকতান্ত্রিক দলের সদস্যেরা।
https://twitter.com/ANI/status/1140567791797526530
ঔরঙ্গাবাদ, গয়া, নওয়াদার পাশাপাশি পাটনা, ভাগলপুর, পূর্ণিয়া-সহ আরও অনেক জেলাতেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আগামী কয়েক দিনও এই আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কথায়, এই তাপপ্রবাহের কারণেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে শিশু মৃত্যু। শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (এসকেএমসিএইচ)-এ এখনও পর্যন্ত ৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৭ শিশু মারা গিয়েছে কেজরীবাল হাসপাতালে। মুজফফরপুরে গত কয়েকদিনে শিশু মৃত্যু সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।