
শেষ আপডেট: 6 June 2023 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত জুড়ে অতি সন্তর্পণে চলছিল মাদক পাচার। কায়দা একই। ইনস্ট্রাগ্রামে সম্ভাব্য ক্রেতাকে খুঁজে প্রথমে মেসেজ পাঠাত মাদক মাফিয়ারা। ক্রেতা আগ্রহ দেখলেই শুরু হয়ে যেত বিক্রির পরিকল্পনা। তখন প্রাইভেট মেসেজিং অ্যাপ 'উইকার মি'-তে স্থানান্তরিত হত কথোপকথন। টাকা পাঠাতে হত ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে। 'ডিল কমফার্ম' হলেই মাদক এসে পৌঁছাত নেদারল্যান্ডস কিংবা পোল্যান্ড থেকে (Biggest Drug bust In 2 Decades)।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সেই মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে নার্কোটিস কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। এনসিবির দাবি, গত দুই দশকের মধ্যে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় 'ড্রাগ বাস্ট'। পাচারকারীদের থেকে ১৫ হাজার ব্লট (ব্লট হল এক ধরনের চৌকো ছোট কাগজ যার মধ্যে এলএসডি রাখা হয়, এবং টা ওই মাদকের সঙ্গেই গ্রহণ করা হয়) নিষিদ্ধ মাদক এলএসডি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এলএসডির পুরো নাম হল লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথাইল্যামাইড। এটি মূলত রাসায়নিক দিয়ে তৈরি একধরনের সিনথেটিক মাদক, যা 'হ্যালুসিনোজেনিক' বিভাগের অন্তর্গত। হ্যালুসিনোজেনিক হল যা শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ বিভিন্ন কল্পদৃশ্য চোখের সামনে দেখতে শুরু করে। আর সেই নেশাতেই হারিয়ে যায়।
ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ২ জন ছাত্র। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের। চক্রের মূল পাণ্ডাকে জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনসিবি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মূলত ডার্কনেটের মাধ্যমে প্রচার চালাত পাচারকারীরা। তারপর ইনস্টাগ্রাম মারফত সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাজে যোগাযোগ করত তারা। নিজেদের পরিচয় গোপন করার জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করত তারা।
প্রসঙ্গত, ডার্কনেট হল একধরনের লুকোনো ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম। মূলত আত্মগোপন করে আইনের চোখ এড়িয়ে মাদক পাচার, নীল ছবির আদানপ্রদান, এবং আরও অন্যান্য অবৈধ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় এই প্ল্যাটফর্মটি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ৬ জনই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। ডার্ক নেট এবং প্রাইভেট মেসেজিং অ্যাপ মারফত নিজেদের কারবার চালিয়ে যেত তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, কারও কাছে মাত্র ০.১ গ্রাম এলএসডি সঙ্গে পাওয়া গেলে সেটাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর এ ঘটনায় ১৫ হাজার ব্লট পাওয়া গেছে যা শাস্তিযোগ্য মাত্রার ২৫০০ গুন।
অমিত শাহের সঙ্গে কোনও সেটিং করিনি, আন্দোলন চলবেই, সাফ কথা বজরংয়ের