দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালের নভেম্বর মাস। ভাইরাস সংক্রমণ, হাহাকার, রোগ জর্জরিত বছরটা কবে শেষ হবে সেই আশায় দিন গুনছিলেন মানুষ (Kolkata)। দীপাবলিতে বাজির উচ্ছ্বাসে আগেই ‘না’ করেছিল হাইকোর্ট। নিষ্প্রভ উৎসবের রাতে সম্বল বলতে ছিল শুধু আলো। কিন্তু গতবছর দীপাবলির সেই আলোর জোয়ারেও ভাঁটা নামিয়েছিল দুঃসংবাদ। কালীপুজোর পরদিন সকালেই চিরঘুমে শায়িত হয়েছিলেন বাংলা সিনেমার জগতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
বছর ঘুরেছে। বাংলার দুয়ারে দীপাবলি এসেছে আরও একবার। আর একইভাবে আরও একবার নিভে গেছে তার সমস্ত আলো। বাংলার রাজনৈতিক মহলকে কাঁদিয়ে দীপাবলির আলোর রাতেই পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।
রাজনীতি আর বিনোদন, দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্র, ভিন্ন তাদের আবেদন। তবু এক বছরের ব্যবধানে এই দুই ক্ষেত্রকেই যেন মিলিয়ে দিল দীপাবলি। তাঁরা মিললেন গভীর শোক আর চিরশান্তির ঘুমে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তারিখের মধ্যে ফারাক দিন দশেকের। সৌমিত্র গিয়েছিলেন ২০২০-এর ১৫ নভেম্বর। আর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হল ২০২১-এর ৪ নভেম্বর। কিন্তু দুই মৃত্যুতেই শোকের পাহাড় জমেছে তিলোত্তমায়। কী এক অপূরণীয় ক্ষতির আভাসে উঠেছে কান্নার রোল।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুঃসংবাদ শুনেই ছুটেছিলেন বেলভিউ ক্লিনিকে। টুইটে একের পর এক শোকবার্তা এসেছিল মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। কিন্তু একুশের দীপাবলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একেবারে ভেঙে দিয়েছে দুঃসংবাদের ঢেউ। রাজনৈতিক সতীর্থ, নিজের দাদার মতো সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন তিনি। বাড়ির কালীপুজোর আসর ছেড়ে এসএসকেএমে ছুটে গেছেন। এই মৃত্যু যে তিনি কোনওভাবেই মানতে পারছেন না তা জানা গেছে শোকাহত উক্তিতে, ‘সুব্রতদার মরদেহ আমি দেখতে পারব না’।
দীপাবলির পরদিনই নাকি হাসপাতাল থেকে ঘরে ফেরার কথা ছিল সুব্রতবাবুর। কিন্তু সন্ধ্যায় আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। কয়েকঘণ্টাতেই সব শেষ। সংবাদমাধ্যম কিংবা ঘনিষ্ঠমহল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, ‘আমি অনেক ঝড়ঝাপ্টা সামলেছি, কিন্তু এ যে আমার কত বড় ক্ষতি, বলে বোঝানো যাবে না।’
পরপর দুই দীপাবলিতে এমন দুই নক্ষত্র পতনে বারবার মুষড়ে পড়েছে কলকাতা। তবু আগামীর সূর্য উঠবে, যাঁরা চলে গেলেন, তাঁদের স্মৃতি সঙ্গে করেই আরও আরও বয়স বাড়বে তার।