
শেষ আপডেট: 3 May 2022 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এলাকায় সুন্দরী বলে রীতিমতো নামডাক ছিল বহরমপুরের (Berhampore) কলেজ ছাত্রী সুতপার। এই সৌন্দর্যই কি কাল হল! বুক চাপড়ে হাহাকার করছে তাঁর পরিবার। গতকাল রাতেই নৃশংস ভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে সুতপাকে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তাঁর প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরী। তাকে গ্রেফতার করার পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, প্রণয়ঘটিত অশান্তির জেরেই এই মর্মান্তিক কাণ্ড।
তদন্তে এবং সুশান্তকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, মালদার গৌড় কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র ছিল সুশান্ত। সে সময় পড়াশোনা করার জন্য পিসির বাড়িতে থাকত সে। তার পাশাপাশিই বাড়ি সুতপার। সেই সময় থেকেই দু'জনের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় বছর পাঁচেক প্রেম করে তারা। কিন্তু সুতপার এই সম্পর্কের কথা পরিবার জেনে যেতেই শুরু হয় অশান্তি। পরিবারের তরফে বারণ করা হয় মেয়েকে, বলা হয় এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হবে না।
মা-বাবা-মেয়েকে একসঙ্গে কুপিয়ে খুন নদিয়ায়! প্রেমঘটিত সমস্যা নাকি সম্পত্তির হিংসা, অন্ধকারে পুলিশ
এর পরেই পরিবারের কথা মেনে নিয়ে সুশান্তর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন সুতপা। বন্ধ করে দেন মেলামেশা। ফাটল ধরে প্রেমে। সেই আক্রোশ থেকেই মাস আটেক আগে সুশান্ত বেশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় সুতপার বাড়িতে হামলাও করে বলে জানা গেছে। এবার প্রাণেই মেরে ফেলল সুতপাকে।
মালদার ইংরেজবাজারের বাসিন্দা সুতপা বহরমপুর (Berhampore) গার্লস কলেজে বটানি নিয়ে পড়তেন। পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছেড়ে বহরমপুরে কত্যায়নীর গলিতে একটি মেসে থাকতেন। সেখানেই সোমবার খুন হন তিনি। তাঁর বাবা স্বাধীন চৌধুরী মালদার একটি স্কুলের শিক্ষকতা করেন স্বাধীন।
অভিযুক্ত ও ধৃত সুশান্ত মালদা থানার বলরামপুরের বাসিন্দা। কম্পিউটার নিয়ে পাটনাতে পড়াশোনা করছিল সে। তার বাবা নিখিল চৌধুরী পেশায় পুলিশ কনস্টেবল। নিউ জলপাইগুড়িতে কর্মরত তিনি। সুশান্তর পরিবারের দাবি, সুশান্ত ছাত্র হিসেবে খুবই ভাল ছিল। সুতপাকে ভালওবাসত সে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল। সুশান্তর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মানসিক অবসাদের ওষুধও পেয়েছে পুলিশ।
কিন্তু তার জেরে যে এমন নৃশংস ভাবে খুনোখুনি হয়ে যাবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ।