দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক দশকের গ্লানি মিটতে চলেছে। সিঙ্গুরে জমিজট, ন্যানোর কারখানা নিয়ে বিক্ষোভ, ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর। সে সব ভুলে ফের বাংলায় তাদের সদর দফতর নিয়ে হাজির হতে চলেছে টাটা। আর এই দফতর হচ্ছে খোদ কলকাতাতেই, টাটা স্টিলের শাখা সংস্থা টাটা স্পঞ্জ আয়রনের হাত ধরে।
সংস্থা সূত্রে খবর, আপাতত ওড়িশার কেওনঝড় থেকে টাটা স্পঞ্জ আয়রেনর রেজিস্ট্রার্ড অফিস স্থানান্তরিত হচ্ছে কলকাতায়। টাটা স্পঞ্জ আয়রন লিমিটেড, এই নামটা প্রাথমিক ভাবে থাকলেও পরে নাম বদলে করা হবে ‘টাটা স্টিল লঙ প্রডাক্টস লিমিটেড।’
সংস্থার পরিচালন পর্ষদ জানিয়েছে, উষা মার্টিন লিমিটেডের ইস্পাত ব্যবসা কিনে নিচ্ছে টাটা স্টিল। সম্প্রতি এ ব্যাপারে চুক্তি সই হয়েছে দুই সংস্থার মধ্যে। ওই ব্যবসা হাতে নিতে টাটা স্টিলের খরচ হবে ৪,৩০০ কোটি থেকে ৪,৭০০ কোটি টাকা। দেশে ইস্পাত এবং ইস্পাতের দড়ি তৈরির অগ্রণী সংস্থা উষা মার্টিন বেশ কয়েক মাস ধরে লোকসানে চলছে। বেড়েছে ঋণের বোঝা। তাই এই সংস্থাটি হাতে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল টাটা।
উষা মার্টিনের হেড কোয়ার্টার জামশেদপুরে, তার একটি শাখা রয়েছে কলকাতায়। এই অফিসটিই এখন কার্যত অধিগ্রহণ করবে টাটা। জামশেদপুরে উষা মার্টিনের বছরে ১০ লক্ষ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যালয় স্টিল কারখানা ছাড়াও সংস্থার লৌহ আকরের খনি, নিজস্ব কয়লার খনি এবং ইস্পাত কারখানার সঙ্গে যুক্ত নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও কিনে নেবে টাটারা। পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটের সময় টাটার এই প্রত্যাবর্তন বাংলার শিল্প ভাবমূর্তিকে অনেকটা বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
টাটা স্টিল ও ইনডাস্ট্রিয়ালল প্রোমোশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের (IPICOL) যৌথ উদ্যোগে টাটা স্পঞ্জের পথ চলা শুরু হয় ১৯৮২ সালে। এই সংস্থার উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৩৯০,০০০ টন। সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, আগামী ১৫ জুলাই কেওনঝড় থেকে কলকাতায় আসবে টাটা স্পঞ্জ। সম্প্রতি ভূষণ স্টিলের বড় অংশীদারি কিনেছে টাটা গোষ্ঠী। এই হাতবদল হয়েছে শাখা সংস্থা বামনিপাল স্টিল মারফত।