
শেষ আপডেট: 4 November 2024 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: অক্টোবরের সিংহী তনয়ার প্রসবের কথা ছিল। নতুন সদস্য আসছে ভেবে খুশিতে মেতে উঠছিল বেঙ্গল সাফারি পার্কের কর্তৃপক্ষ। ভেবেছিল, সিংহের প্রজননে নজির গড়বে এই পার্ক। কিন্তু অক্টোবর পেরিয়ে গেলেও সন্তান প্রসব করেনি তনয়া। পশুচিকিৎসকরা পরীক্ষা করতেই জানা গেল তনয়া গর্ভবতী নয়। এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো হতাশ বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষ।
পশুচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সিংহী তনয়া হরমোনজনিত সমস্যা ভুগছিল। তাই তনয়াকে দেখে মনে হয়েছিল গর্ভবতী। এই ধরণের সমস্যাকে সিউডো প্রেগনেন্সি বলে। সন্তান প্রসবের সময়ে কাছে আসতেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ওই সিংহী আদতে গর্ভবতী হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই পার্ক কর্তৃপক্ষ ভীষণ হতাশ। তবে আশা ছাড়তে পারছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানা থেকে সুরজ ও তনয়াকে বেঙ্গল সাফারিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরপরেই সিংহী তনয়ার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পার্কের আধিকারিকরা। ত্রিপুরার চিড়িয়াখানায় সুরজ ও তনয়া একসঙ্গে থাকত। তাই কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল, তনয়া সম্ভবত গর্ভবতী। অক্টোবর মাসে মাঝামাঝি সময়ে সন্তান প্রসব করার কথা ছিল তনয়ার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা করে জানা যায় তনয়ার সিউডো প্রেগনেন্সি হয়েছিল। সাফারি পার্কের অধিকর্তা বিজয় কুমার জানিয়েছেন, তনয়া গর্ভবতী নয়। সেটা পরিষ্কার। তনয়ার সিউডো প্রেগনেন্সি হয়েছিল। চলতি ভাষায় যাকে ফলস প্রেগনেন্সি বলে৷
সিউডো প্রেগনেন্সি কী? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোনও স্ত্রী পশুর শরীর থেকে অতিরিক্ত প্রোজোস্টেরন হরমোন নির্গত হয়। ফলে জরায়ুতে থাকা কর্পাস লিউটিয়াম নামে একটি গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এতে বাহিরে থেকে স্ত্রী পশুটি গর্ভধারণ করেছে বলে মনে হয়। গর্ভধারণের সমস্ত লক্ষণ ফুটে ওঠে। বেশি বিশ্রাম নেওয়া, স্তন ফুলে যাওয়া, মাটি খোরা, খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মাঝেমধ্যে খাবার না খাওয়া এমন সব লক্ষণ দেখা যায়। প্রোজোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে শরীর ৷ আর তনয়ার ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ ধরা পড়েছিল ।
বাঘ প্রজননে নজির রয়েছে বেঙ্গল সাফারি পার্ক। সিংহেক প্রজননেও শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তারা মনে করছে, তনয়া পরবর্তীতে সত্যি সত্যি গর্ভধারণ করলে তাদের সেই আশা পূর্ণ হবে। তাই তনয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।